সিলেটের গোলাপগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবর্ষণের নির্দেশদাতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তথ্য প্রদানে অসহযোগিতার অভিযোগে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারোয়ার আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন আদালত। সিলেটের আমলি আদালত নম্বর-২-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই আদেশ দিলেও বৃহস্পতিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তাজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুলী বেগম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই-কে নির্দেশ দেন। তদন্তের প্রয়োজনে পিবিআই পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ গত বছরের এপ্রিল মাসে সিলেটের জেলা প্রশাসক এবং বিজিবির শ্রীমঙ্গল সেক্টর সদর দপ্তরে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজিবি তথ্য সরবরাহ করলেও জেলা প্রশাসন থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর আদালত গত বছরের জুন মাসে ১৫ দিনের মধ্যে তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দিলেও জেলা প্রশাসন তা অমান্য করে। এমনকি কয়েক দফা তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তথ্য সরবরাহ না করায় মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তথ্য না দেওয়ায় বিচারকাজ ব্যাহত হচ্ছে, যা সরাসরি আদালত অবমাননা ও শাস্তিযোগ্য অপরাধের শামিল।
আদালতের শোকজ নোটিশে জেলা প্রশাসককে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, তা স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আদালত সতর্ক করেছেন। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম জানান, তিনি শোকজের বিষয়ে অবগত হয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়ে আদালতে এর যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান করবেন।







