ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে পশ্চিমা প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে আরও এক ধাপ এগোল মস্কো। জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ WhatsApp সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া।
বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এখন থেকে রাশিয়ার নাগরিকদের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত বিকল্প অ্যাপ ‘ম্যাক্স’ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ক্রেমলিনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপের মালিক প্রতিষ্ঠান Meta রুশ আইন মেনে চলা এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য সংরক্ষণের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “মেটা রুশ আইনের ধারা ও বিধি মানতে অনীহা প্রকাশ করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তারা যদি আইন মেনে সংলাপে আসে, তবে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর সুযোগ থাকতে পারে।”
রাশিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তি কোম্পানি ভিকে ‘ম্যাক্স’ নামে যে অ্যাপ তৈরি করেছে, সেটিকেই এখন বিকল্প হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। মেসেজিং সুবিধার পাশাপাশি এই অ্যাপের মাধ্যমে সরকারি সেবা গ্রহণ এবং আর্থিক লেনদেনও সম্ভব বলে জানা গেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে রাশিয়ায় বিক্রি হওয়া সব স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে অ্যাপটি প্রি-ইনস্টল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে সমালোচক ও সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দাবি, ম্যাক্স অ্যাপে হোয়াটসঅ্যাপের মতো ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ নেই। ফলে সরকার চাইলে ব্যবহারকারীদের বার্তা বা কথোপকথনে নজরদারি চালাতে পারবে।
হোয়াটসঅ্যাপের এক মুখপাত্র রাশিয়ার এ সিদ্ধান্তকে ‘পেছন দিকে হাঁটা’ বলে উল্লেখ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ১০ কোটিরও বেশি মানুষকে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা রুশ নাগরিকদের নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া Facebook ও Instagram নিষিদ্ধ করেছিল। বর্তমানে অনেক রুশ নাগরিক ভিপিএন ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ চালানোর চেষ্টা করছেন। তবে ডোমেইন ব্লক করে দেওয়ায় সেটিও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম Telegram-এর ওপরও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়ার যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসকমনাদজোর।







