বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের পথ সুগম করতে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা উন্মোচন করা হয়েছে। বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করা চারটি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এই নতুন রূপরেখা ঘোষণা করেন।
ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতি, বাংলাদেশ প্রবাসী উন্নয়ন সমিতি, বাংলাদেশি মাইগ্রেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন এবং বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশনের (বিএমএফ) উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মূল পরিকল্পনা তুলে ধরেন ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ প্রবাসী উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতে প্রায় এক কোটি দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে। এই বিশাল চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে ২০২৬ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স ও রোমানিয়ার মতো দেশগুলোতে ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মহাপরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষায়িত ‘ইউরোপীয় উইং’ গঠন করা, যা সরাসরি ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে জি-টু-জি (সরকার টু সরকার) চুক্তির মাধ্যমে কাজ করবে। এছাড়া অবৈধ পথে বিপজ্জনক অভিবাসন রুখতে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ভাষাশিক্ষা কেন্দ্র নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ বৈধ পথে আনতে আকর্ষণীয় ইনসেনটিভ ও প্রবাসী বন্ড চালুসহ প্রবাসীদের ভোটাধিকার, সংসদীয় কোটা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে এই পরিকল্পনায়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জয় বলেন, নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেটমুক্ত করা জরুরি। অভিবাসন খরচ কমিয়ে সাধারণ কর্মীদের নাগালের মধ্যে আনার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ যাত্রার পুরো অর্থ ঋণ হিসেবে প্রদানের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশি মাইগ্রেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী দেশের প্রতিটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে (টিটিসি) আরও কার্যকর ও আধুনিক করার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, তরুণ সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।







