আর্কাইভ
ads
logo

হাড় না ভাঙা পর্যন্ত স্ত্রীকে মারধর বৈধ, আফগানিস্তানে নতুন আইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশকাল: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৭ পি.এম
হাড় না ভাঙা পর্যন্ত স্ত্রীকে মারধর বৈধ, আফগানিস্তানে নতুন আইন

ছবিঃ সংগৃহীত

ads

আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার দেশটিতে পারিবারিক সহিংসতাকে আইনি রূপ দিয়ে একটি বিতর্কিত নতুন দণ্ডবিধি অনুমোদন করেছে। ৯৫ পৃষ্ঠার এই দীর্ঘ ফৌজদারি আইনে স্ত্রী ও সন্তানদের মারধরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, মারধরের ফলে যদি হাড় ভেঙে না যায় বা গুরুতর জখম না হয়, তবে একে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না। তবে শারীরিক আঘাতের চিহ্ন থাকলে বা হাড় ভেঙে গেলে স্বামীকে আইনি জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার স্বাক্ষরিত এই আইনটি মূলত ইসলামী বিধানের কট্টর ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে অপরাধীর সামাজিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে, যা আফগান সমাজে একটি নতুন বর্ণবৈষম্য বা শ্রেণিবিন্যাস তৈরি করছে। এই কাঠামোর শীর্ষে থাকা ধর্মীয় নেতাদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রায় পূর্ণ দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জন্য রাখা হয়েছে কঠোরতম দণ্ড।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই দণ্ডবিধির ফলে আফগান নারীদের অবস্থান কার্যত দাসের পর্যায়ে নেমে এসেছে। আইনে বলা হয়েছে, স্বামী বা অভিভাবকরা তাদের অধীনস্থদের শাসন করার পূর্ণ অধিকার রাখেন। নির্যাতিত কোনো নারী যদি প্রতিকার পেতে চান, তবে তাকে বিচারকের সামনে সম্পূর্ণ আবৃত অবস্থায় ক্ষতস্থান প্রদর্শন করতে হবে এবং সঙ্গে একজন পুরুষ অভিভাবক (মাহরাম) থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্যাতনকারী নিজেই সেই অভিভাবক হওয়ায় নারীদের পক্ষে ন্যায়বিচার পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

নতুন আইনের আরেকটি ধারা অনুযায়ী, কোনো নারী যদি স্বামীর অনুমতি ছাড়া বারবার বাবার বাড়ি বা স্বজনদের কাছে আশ্রয় নেন এবং ফিরে আসতে অস্বীকৃতি জানান, তবে ওই নারীসহ আশ্রয়দাতা আত্মীয়দের তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘রাওয়াদারি’র মতে, এই আইনটি নির্যাতিত নারীদের শেষ আশ্রয়ের পথও বন্ধ করে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই দণ্ডবিধির মাধ্যমে দেশটিতে নারী ও শিশুদের ওপর পরিচালিত শারীরিক ও মানসিক সহিংসতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার জন্য দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিধান ছিল, সেখানে বর্তমানে গুরুতর নির্যাতনের প্রমাণ মিললেও স্বামীর সর্বোচ্চ সাজা হবে মাত্র ১৫ দিনের জেল। এই আ

ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ