গাজায় স্থায়ী শান্তি স্থাপন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত ‘শান্তি পরিষদ’-এর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে ওয়াশিংটন ডিসিতে। এই সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অনুদান ঘোষণা করলেও নেপথ্যে এক ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, শান্তি প্রতিষ্ঠার আড়ালে গাজায় প্রায় ৩৫০ একর এলাকাজুড়ে একটি বিশাল সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের গোপন পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ফাঁস হওয়া নথির বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘাঁটিটি মূলত ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ বা আইএসএফ-এর অপারেশনাল বেস হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন শান্তি পরিষদের অধীনে পরিচালিত এই ঘাঁটিতে অন্তত ৫ হাজার সেনাসদস্যের আবাসন ব্যবস্থা থাকবে। ১ হাজার ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১ হাজার ১০০ মিটার প্রস্থের এই বিশাল স্থাপনাটি দক্ষিণ গাজার একটি সমতল এলাকায় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নথিতে উল্লেখ রয়েছে, পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেষ্টনীতে ঘেরা থাকবে এবং সেখানে ২৬টি অত্যাধুনিক নজরদারি টাওয়ার, বাঙ্কার, অস্ত্রাগার ও সামরিক প্রশিক্ষণের সরঞ্জাম থাকবে। বিশেষ করে যুদ্ধকালীন সুরক্ষার জন্য সেখানে উন্নত বায়ু চলাচল ব্যবস্থাসম্পন্ন বিশাল বাঙ্কার তৈরির নকশাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এদিকে ওয়াশিংটনের ওই বৈঠকে কাতার, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আরও প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার তহবিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া এই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে সেনা মোতায়েনের এবং মিশর ও জর্ডান পুলিশ প্রশিক্ষণে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী এই শান্তি প্রক্রিয়ার বৈঠকে ফিলিস্তিনিদের কোনো প্রতিনিধি ছিল না। এমনকি যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইতালির মতো ইউরোপীয় প্রভাবশালী দেশগুলোও এই সম্মেলন থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ শেষ হওয়ার দাবি করলেও উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট এক উদ্বেগজনক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ মাসের ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় নিহতের সংখ্যা এখন ৭৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও গাজা সিটি, খান ইউনিস এবং রাফাহর আল মাওয়াসি এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। একদিকে পুনর্গঠনের তোড়জোড় আর অন্যদিকে নির্বিচার হামলা ও সামরিক ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।







