বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকায় শোচনীয় পরাজয়ের মুখে পড়েছেন নাগরিক ঐক্যের শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। ভোটের মাঠে ন্যূনতম জনসমর্থন অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এই হেভিওয়েট প্রার্থী তাঁর জামানত হারাতে বসেছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ ফলাফলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে তাঁর জামানত টিকিয়ে রাখতে হলে মোট কাস্টিং ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শিবগঞ্জ আসনের ১১৫টি কেন্দ্রে সর্বমোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০২টি। সেই হিসেবে মাহমুদুর রহমান মান্নার জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩০ হাজার ৪৭৬ ভোট। তবে তিনি মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন, যা মোট বৈধ ভোটের মাত্র ১.৪০ শতাংশ। আইন অনুযায়ী প্রাপ্ত ভোটের এই নগণ্য হার তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
এদিকে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, এই আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মীর শাহে আলম। তিনি ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট।
উল্লেখ্য যে, বৃহস্পতিবার রাতে ঘোষিত এই ফলাফলে দেখা যায় বগুড়া-২ আসনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মোট ভোটারের ৭২.৬৩ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০২ জন নাগরিক তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বিপুল এই জনম্যান্ডেটের বিপরীতে মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।







