ভারত মহাসাগরের দ্বীপ দেশ মাদাগাস্কারে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় গেজানি ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র রেখে গেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে পূর্ব উপকূলীয় বন্দরনগরী তুয়ামাসিনায় আঘাত হানা এই ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।
দেশটির জাতীয় ঝুঁকি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতর বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জানায়, ঘূর্ণিঝড়ে এখন পর্যন্ত ৩৮ জন নিহত এবং ৩৭৪ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঝড়ে ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে গেছে, অনেক বাড়ির মেঝে পানিতে তলিয়ে গেছে এবং শক্ত দেয়াল পর্যন্ত ধসে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, এই দুর্যোগে ১৮ হাজার ৬০০টি ঘরবাড়ি প্লাবিত, ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৯৩টি শ্রেণিকক্ষ এবং ২০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ধানক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি পানীয় জলের উৎস দূষিত হওয়ায় জনস্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে।
এর আগে ৩১ জানুয়ারি উত্তর-পশ্চিম মাদাগাস্কারে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘ফিটিয়া’তে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩১ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। সাম্প্রতিক এই গেজানি ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির তুলনা করা হচ্ছে ১৯৯৪ সালের ঘূর্ণিঝড় জেরালদার সঙ্গে, যেখানে অন্তত ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।







