মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা নিরসনে তার দেওয়া শুল্ক আরোপের হুমকি মূল ভূমিকা পালন করেছিল। তার মতে, ওই সময় দুই দেশ কার্যত একটি পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল এবং সেই সংঘাতে ১০টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ‘ফক্স বিজনেস’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের মধ্যস্থতায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, তিনি এ পর্যন্ত আটটি বড় ধরনের সংঘাতের মীমাংসা করেছেন। এর মধ্যে অন্তত ছয়টি ক্ষেত্রে তিনি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের ভয় দেখিয়ে তাদের যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করেছেন। ভারত ও পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তিনি দুই দেশকেই সতর্ক করেছিলেন যে সংঘাত বন্ধ না করলে তাদের বিশাল অর্থনৈতিক মাসুল দিতে হবে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ওই সময়কার লড়াইয়ে ১০টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল এবং পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তারা একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, শাহবাজ শরিফ নাকি তাকে জানিয়েছিলেন যে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে অন্তত এক কোটি মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। ট্রাম্পের বিশ্বাস, মার্কিন বাণিজ্যিক চাপ না থাকলে দেশ দুটি সম্ভবত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে ফেলত।
উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি হামলার ঘটনার জেরে ভারত পাকিস্তানে ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। গত বছরের ১০ মে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ‘পূর্ণাঙ্গ’ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে ভারত শুরু থেকেই এই সংঘাতে কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
ভূপাতিত বিমানের সংখ্যা নিয়ে ট্রাম্পের দেওয়া তথ্যে বারবার পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। শুরুতে পাঁচটি বিমানের কথা বললেও পরবর্তী কয়েক মাসে তিনি সেই সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে সাতটি ও আটটিতে উন্নীত করেন। সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সংখ্যাটি বাড়িয়ে ১০টি বলে দাবি করলেন। যদিও এই তথ্যের স্বপক্ষে এখন পর্যন্ত ভারত বা পাকিস্তান—কোনো দেশই আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।







