মধ্যপ্রাচ্য থেকে সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে এবার আফ্রিকার দেশগুলোতে মনোনিবেশ করছে মার্কিন প্রশাসন। ইরাকের সর্বশেষ ঘাঁটি খালি করে সেনাদল সরিয়ে নেওয়ার পর ওয়াশিংটন এখন নাইজেরিয়ার দিকে নজর দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়েছে, নাইজেরিয়ায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইরত দেশটির বাহিনীকে সহযোগিতা করতে সেখানে ২০০ জন মার্কিন সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেরিত এই সেনারা মূলত প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করবেন। নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীকে কারিগরি ও রণকৌশলগত সহায়তা প্রদান করা তাদের মূল লক্ষ্য হলেও তারা সরাসরি কোনো সম্মুখ যুদ্ধে বা অভিযানে অংশ নেবেন না। উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেই নাইজেরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) গোপন আস্তানায় বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই আকাশপথের অভিযানের পর এবার স্থলভাগের জন্য এই ঘোষণা এল।
এর আগে গত সপ্তাহে নাইজেরিয়ায় একটি ক্ষুদ্র সেনাদল পাঠানোর কথা স্বীকার করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে সেই সময় সদস্য সংখ্যা গোপন রাখা হলেও এবার নির্দিষ্টভাবে দুইশ সেনা সদস্যের কথা জানানো হয়েছে। এই নতুন দলটি সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত ক্ষুদ্র মার্কিন ইউনিটের সাথে যুক্ত হবে।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির সরকার ব্যর্থ হচ্ছে বলে আগে থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে নাইজেরিয়া সরকারের ওপর ব্যাপক কূটনৈতিক চাপও ছিল। তবে নাইজেরিয়া সরকার খ্রিস্টানদের ওপর পরিকল্পিত নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, ইসলামপন্থি জঙ্গিরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুসলিম ও খ্রিস্টান সবার ওপরই হামলা চালাচ্ছে এবং সেনাবাহিনী তাদের দমনে কাজ করছে।
গত ১৭ বছর ধরে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি) এর মতো বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর অভয়ারণ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ২৩ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই দেশটিতে মুসলিম ও খ্রিস্টান জনসংখ্যা প্রায় সমান। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্রোহীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে মার্কিন সামরিক সহায়তার এই নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।







