আর্কাইভ
ads
logo

বাংলাদেশর নির্বাচন জেন–জি কর্তৃক প্রভাবিত

রয়টার্সের প্রতিবেদন

প্রকাশকাল: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫০ পি.এম
বাংলাদেশর নির্বাচন জেন–জি কর্তৃক প্রভাবিত

ads

দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজপথে ফিরেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র—আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে নতুন প্রজন্ম। আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অনেকেই দেখছেন জেন–জি প্রভাবিত বিশ্বের প্রথম বড় নির্বাচন হিসেবে, যেখানে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা হতে যাচ্ছে নির্ণায়ক।

শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্বাচনের সময় বিরোধী দলগুলোর রাজপথে উপস্থিতি ছিল সীমিত। কখনো নির্বাচন বর্জন, কখনো জ্যেষ্ঠ নেতাদের গ্রেপ্তারের কারণে তারা কার্যত কোণঠাসা ছিল। তবে এবারের নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে গেছে। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে।

ওই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণদের অনেকেই বলছেন, ২০০৮ সালের পর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে এবারই প্রথম সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সেই ২০০৮ সাল থেকেই শুরু হয়েছিল শেখ হাসিনার প্রায় ১৫ বছরের শাসনকাল।

২১ বছর বয়সী ভোটার মোহাম্মদ রাকিব বলেন, “পরবর্তী সরকার এমন পরিবেশ নিশ্চিত করবে, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে নিজের মতপ্রকাশ এবং স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এগিয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে বলে মনে করছেন অনেকে। এ ছাড়া ৩০ বছরের কম বয়সী জেন–জি নেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রথমে স্বতন্ত্রভাবে হাসিনাবিরোধী রাজপথের আন্দোলনকে ভোটে রূপ দিতে ব্যর্থ হলেও পরে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যুক্ত হয়েছে।

৩০০ আসনের জাতীয় সংসদের মধ্যে বিএনপি এবার ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। দলের প্রধান তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেছেন, “সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পাওয়ার” বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক অপিনিয়ন স্টাডিজের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, দেশের ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ দুর্নীতি। এর পরের অবস্থানে রয়েছে মূল্যস্ফীতি।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, শেখ হাসিনার পতনের পর দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক অচলাবস্থা বিরাজ করেছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে। প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি জনসংখ্যার এই দেশের জন্য তাই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ফল দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে চীন ও ভারতের ভূমিকার ক্ষেত্রে।

ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, “জনমত জরিপগুলোতে বিএনপি স্পষ্টতই এগিয়ে আছে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, ভোটারদের বড় একটি অংশ এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।”

তার মতে, নির্বাচনের ফল নির্ধারণে একাধিক বিষয় প্রভাব ফেলবে, যার মধ্যে জেন–জি ভোটারদের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মোট ভোটারের প্রায় এক–চতুর্থাংশই এই প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত, ফলে তাদের পছন্দ–অপছন্দ ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে সারা দেশে এখন নির্বাচনী প্রচারণার দৃশ্য চোখে পড়ছে। সাদা–কালো পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে সড়ক, দেয়াল, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি। বিএনপির ‘ধানের শীষ’ ও জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক সবচেয়ে বেশি নজরে পড়ছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পোস্টারও রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় খোলা হয়েছে নির্বাচনী কার্যালয়, হচ্ছে মিছিল–সমাবেশ, বাজছে প্রচারমূলক গান।

অতীতের নির্বাচনগুলোতে এমন বহুমুখী প্রচারের চিত্র দেখা যায়নি। সে সময় সর্বত্র আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল।

জনমত জরিপগুলো আরও ইঙ্গিত দিচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে সরকার গঠন করতে না পারলেও দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো ফল অর্জন করতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে দলটি ‘ভারতের সমর্থনে’ পাকিস্তানের কাছ থেকে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং একসময় দলটি নিষিদ্ধও ছিল।

সূত্র: রয়টার্স

ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ