স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক এবার মঙ্গলের স্বপ্নকে সাময়িকভাবে পিছনে রেখে চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিতে চলেছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ দেওয়া এক ঘোষণায় মাস্ক জানান, তার কোম্পানির মূল লক্ষ্য আগামী ১০ বছরের মধ্যে চাঁদে একটি ‘স্ব-বর্ধিষ্ণু শহর’ গড়ে তোলা। এর আগে তিনি মঙ্গলে একই ধরনের বসতি স্থাপনের জন্য ২০ বছরের পরিকল্পনা করেছিলেন, যা এখন অপেক্ষমাণ লক্ষ্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
মাস্ক ব্যাখ্যা করেছেন, কৌশলগত ও সময়সংক্রান্ত কারণে চাঁদে বসতি দ্রুত গড়ে তোলা সম্ভব। “মঙ্গলে যাওয়ার জন্য প্রতি ২৬ মাসে একবার সুযোগ থাকে এবং যাত্রায় লাগে প্রায় ছয় মাস। কিন্তু চাঁদে মহাকাশযান পাঠানো যায় প্রতি ১০ দিনে, আর সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র দুই দিন। তাই মানব সভ্যতার বিকল্প ঠিকানা হিসেবে চাঁদ অনেক দ্রুত ও কার্যকর হবে,” তিনি বলেন।
তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, মঙ্গল গ্রহণের স্বপ্ন তিনি পরিত্যাগ করেননি। আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে সেখানে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাস্কের এই পরিবর্তন আসে মার্কিন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং নাসার সঙ্গে স্পেস-এক্সের প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের চন্দ্রচুক্তির কারণে। এর আগে তিনি নাসার ‘আর্টেমিস’ চন্দ্রাভিযানকে সময়ের অপচয় হিসেবে সমালোচনা করেছিলেন।
বর্তমানে স্পেস-এক্সের ‘স্টারশিপ’ রকেট উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, যদিও কয়েকবার পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে বিস্ফোরণ ঘটেছে। অন্যদিকে জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন নাসার চন্দ্রাভিযান প্রকল্পে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কাজ করছে।
চীনের সঙ্গে মহাকাশ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার জন্য নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে এবং মার্চে ‘আর্টেমিস-২’ মিশন পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাস্কের এই নতুন অগ্রাধিকার মহাকাশ গবেষণার প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন







