স্ট্রোক একটি জরুরি মেডিকেল অবস্থা, যা হঠাৎ করে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ বা রক্তক্ষরণের কারণে ঘটে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে স্ট্রোক স্থায়ী অক্ষমতা বা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে, তবে আগাম সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষতি অনেকাংশে প্রতিরোধযোগ্য।
স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণ হলো—হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে না পারা। অনেক সময় হঠাৎ চোখে ঝাপসা, মাথা ঘোরা বা তীব্র মাথাব্যথাও স্ট্রোকের পূর্বাভাস দিতে পারে। এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ধূমপান স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্য ও অপর্যাপ্ত ব্যায়াম ঝুঁকি আরও বাড়ায়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ সঠিকভাবে গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকরা স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্তের জন্য ‘FAST’ সূত্র ব্যবহার করার পরামর্শ দেন—
F (Face): মুখ বেঁকে যাওয়া
A (Arm): হাত অবশ বা দুর্বল হওয়া
S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা বলা সম্ভব না হওয়া
T (Time): দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো
স্ট্রোকের প্রথম সাড়ে ৪ ঘণ্টাকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয়। এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করলে মস্তিষ্কের কোষগুলো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায়। অনেকে স্ট্রোককে সাধারণ প্যারালাইসিস মনে করে অপচিকিৎসা বা জাদুবিদ্যা অনুসরণ করেন, যা রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।
যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের নিয়মিত চেকআপ, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়ানো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্রোকের পর সঠিক ফিজিওথেরাপি রোগীকে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্ষম করে তুলতে সহায়ক।
মোটকথা: সতর্কতা, সচেতনতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত—এই তিনটি মূল চাবিকাঠি স্ট্রোক মোকাবিলার প্রধান হাতিয়ার।







