আর্কাইভ
ads
logo

ওজন কমাতে ঘুম কতটা জরুরি?

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশকাল: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৫ পি.এম
ওজন কমাতে ঘুম কতটা জরুরি?

ads

ডায়েট আর ব্যায়াম—ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এ দুটোকেই আমরা প্রধান অস্ত্র মনে করি। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সুস্থ ওজন ধরে রাখতে আরেকটি মৌলিক উপাদান রয়েছে, যাকে আমরা প্রায়ই অবহেলা করি—ঘুম।

স্লিপ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ঘুমের ঘাটতি থাকলে শরীর তাৎক্ষণিক ক্লান্তি না দেখালেও ভেতরে ভেতরে বিপাক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন ঘটে। স্বাভাবিকভাবে শরীর লেপটিন (পেট ভরার সংকেতদাতা) এবং ঘ্রেলিন (ক্ষুধা উদ্দীপক) হরমোনের মাধ্যমে ক্ষুধা ও শক্তির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এই দুই হরমোনের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, লেপটিনের মাত্রা কমে এবং ঘ্রেলিনের মাত্রা বেড়ে গেলে ক্ষুধা বাড়ে, ফলে বারবার খাবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।

এতে কেবল ক্ষুধাই বাড়ে না, বরং উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শর্করা-সমৃদ্ধ খাবার ও দিনের শেষভাগে নাশতা করার প্রবণতা বেড়ে যায়। একই সময়ে রেস্টিং মেটাবলিক রেট—অর্থাৎ বিশ্রাম অবস্থায় শরীর যে পরিমাণ ক্যালোরি ব্যয় করে—তা বাড়তি ক্যালোরির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পারে না। ফলাফল হিসেবে অতিরিক্ত শক্তি খরচ না হয়ে শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হতে শুরু করে।

অনেকেই নিয়ম মেনে খাবার খান এবং নিয়মিত ব্যায়ামও করেন, তবু ওজন কমতে চায় না। এমন পরিস্থিতিতে ঘুমের অভ্যাস পর্যালোচনা করা জরুরি। প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম শুধু বিশ্রামের জন্য নয়; এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে কেবল ঘুমের সময়সীমা নয়, ঘুমের মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত সময় ঘুমিয়েও যদি ঘুম গভীর না হয়, তাহলে অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার ঝুঁকি বাড়ে—যা নারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। মানসম্মত ঘুমের জন্য নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে শুতে যাওয়া, ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এমন অভ্যাস কমানো এবং নাক ডাকা বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা থাকলে তা চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।

অবশ্যই, শুধু ভালো ঘুমই ওজন কমানোর একমাত্র সমাধান নয়। ধূমপান, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্যাভ্যাস বা শারীরিক পরিশ্রমের অভাব থাকলে ঘুমের সুফল অনেকটাই কমে যায়। তবু সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ঘুমের ভূমিকা অপরিসীম এবং তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।

সঠিক ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করলে শরীর স্বাভাবিক ছন্দে কাজ করতে পারে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে দেহ এমন সংকেত পায়, যাতে খাবার থেকে পাওয়া শক্তি খরচের বদলে সঞ্চয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে—যা ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।

ads

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ