দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের নানান সমস্যা বেড়ে চলেছে। কারও চোখ জ্বালাপোড়া করছে, কারও ব্যথা হচ্ছে, আবার অনেকের চোখে শুষ্কতার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কিছু সহজ ব্যায়াম চর্চা করলে এই অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সকাল থেকে শুরু করে রাত অবধি—অফিসের কাজ, পড়াশোনা, বিনোদন—সবকিছুতেই এখন ভরসা মোবাইল ও ল্যাপটপের স্ক্রিন। এমনকি বাথরুমে গিয়েও কেউ দেখছেন ওয়েব সিরিজ়, কেউ ডুবে যাচ্ছেন গেমের জগতে। প্রযুক্তিনির্ভর এই জীবনযাত্রার সরাসরি প্রভাব পড়ছে চোখের উপর।
চক্ষু চিকিৎসকদের কথায়, এই ধরনের ব্যায়াম চোখের পেশি ও স্নায়ুকে শিথিল করে এবং চোখের উপর জমে থাকা চাপ কমাতে সাহায্য করে।
প্রথম ব্যায়াম: তালুর উষ্ণতায় আরাম
দুই হাতের তালু ভালো করে ঘষে সামান্য গরম করে নিন। মেরুদণ্ড সোজা রেখে আরাম করে বসুন। তারপর আলতোভাবে গরম তালু দু’টি বন্ধ চোখের উপর রাখুন। খেয়াল রাখবেন, চোখের মণিতে যেন সরাসরি চাপ না পড়ে। এ অবস্থায় গভীরভাবে শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। প্রায় ২ মিনিট পর হাত সরিয়ে ধীরে ধীরে চোখ খুলুন।
দ্বিতীয় ব্যায়াম: কাছে-দূরে ফোকাস
হাতের বুড়ো আঙুলটি চোখের সামনে প্রায় ১০ ইঞ্চি দূরত্বে ধরুন এবং কয়েক সেকেন্ড একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকুন। তারপর দৃষ্টি সরিয়ে প্রায় ১০-২০ ফুট দূরে থাকা কোনও বস্তুর দিকে তাকান। এইভাবে কাছের ও দূরের বস্তুর মধ্যে ফোকাস বদল করে অন্তত ৫-৬ বার অনুশীলন করুন। নিয়মিত করলে চোখের পেশির নমনীয়তা বাড়ে।
তৃতীয় ব্যায়াম: পেন্সিলের সাহায্যে চোখের নড়াচড়া
একটি পেন্সিল বা পেন নাকের সামনে এক হাত দূরত্বে ধরুন এবং তার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকুন। মাথা স্থির রেখে ধীরে ধীরে পেন্সিলটি ডানে ও বামে সরান, চোখও সেই অনুযায়ী নড়বে। একইভাবে উপরে ও নিচে সরান। এরপর পেন্সিলটি আস্তে করে নাকের দিকে আনুন এবং আবার দূরে নিয়ে যান। পুরো সময় জুড়ে পেন্সিলের শিসে দৃষ্টি স্থির রাখুন। এই ব্যায়ামও চোখের ক্লান্তি কমাতে কার্যকর।
প্রযুক্তির ব্যবহার এড়ানো সম্ভব নয়, তবে সচেতনতা ও নিয়মিত ব্যায়াম চর্চায় চোখকে রাখা যায় সুস্থ ও সতেজ।







