শিশুদের হৃদ্রোগ অনেক সময় নীরবে শুরু হলেও এর প্রভাব হতে পারে মারাত্মক। অনেক অভিভাবকই জানেন না, জন্মের পর থেকেই কিংবা বড় হওয়ার পথে শিশুদের হৃদ্রোগ দেখা দিতে পারে। সময়মতো লক্ষণ শনাক্ত ও সঠিক চিকিৎসা শুরু করা গেলে জটিলতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের হৃদ্রোগের একটি বড় অংশই জন্মগত। তবে জন্মের পরেও বাতজ্বর, কাওয়াসাকি ডিজিজ, হার্টে ভাইরাস সংক্রমণ, প্রদাহজনিত সমস্যা কিংবা ভিটামিন বি১–এর ঘাটতির কারণে হৃদ্রোগ দেখা দিতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
গর্ভধারণের প্রথম ১২ সপ্তাহে যদি অন্তঃসত্ত্বা মা কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হন—যেমন রুবেলা ভাইরাসে সংক্রমণ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, তেজস্ক্রিয়তার সংস্পর্শ, নেশাদ্রব্য গ্রহণ বা ধূমপান—তাহলে শিশুর জন্মগত হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
অধিক বয়সী মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুদের ডাউন সিনড্রোমের আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি, আর এই শিশুদের মধ্যেই জন্মগত হৃদ্রোগের হারও বেশি দেখা যায়।
এ ছাড়া যেসব শিশু জেনেটিক বা ক্রোমোজোমজনিত সমস্যায় আক্রান্ত—যেমন টারনার সিনড্রোম বা নুনান সিনড্রোম—তাদের হৃদ্রোগের ঝুঁকিও বেশি থাকে।
ঘনবসতিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করলে বাতজ্বর এবং বাতজ্বরজনিত হৃদ্রোগের আশঙ্কা বাড়ে। পাশাপাশি পুষ্টিহীনতা, বিশেষ করে থায়ামিনের ঘাটতিতেও শিশুদের হৃদ্রোগ হতে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন
- জন্মের পর থেকেই শিশুর ঘন ঘন জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
- যেসব শিশু দীর্ঘ সময় ধরে দুধ খেতে পারে না, সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে বা বয়স অনুযায়ী ওজন বাড়ে না—এগুলো হৃদ্রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
- দুধ খাওয়ানোর সময় অতিরিক্ত ঘাম, নীলচে ভাব কিংবা অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠাও ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষণের মধ্যে পড়ে।
চিকিৎসা ও করণীয়
শিশুর হৃদ্রোগের কোনো সন্দেহ দেখা দিলে দেরি না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা–নিরীক্ষার মাধ্যমে হৃদ্রোগ আছে কি না, থাকলে তার ধরন ও অবস্থা নির্ণয় করা জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং নিয়মিত ফলোআপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হৃদ্রোগে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে হার্ট ফেইলিউর, ঘন ঘন নিউমোনিয়া, হার্টের ভালভে সংক্রমণ কিংবা সার্বিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এ কারণে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা ও প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে শিশুর সুস্থ জীবনের জন্য অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হতে পারে।







