আর্কাইভ
ads
logo

অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে

Rakib@thevoice24.com

প্রকাশকাল: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৯ পি.এম
অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে

ads

বাংলাদেশে বিশেষ করে অবিবাহিত তরুণ ও তরুণীদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে দেশে নতুনভাবে শনাক্ত হওয়া এইচআইভি রোগীর সংখ্যা হয়েছে ১,৮৯১, এবং একই সময়ে ২১৯ জন মারা গেছেন, যেখানে বড় অংশই অবিবাহিত যুবক-যুবতী। 


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য বলে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে শনাক্ত হওয়া আক্রান্তদের মধ্যে ৪২% অবিবাহিত তরুণ–তরুণী, যা আগের বছরের ৩১.৫% থেকে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। 


রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতি আরও দুশ্চিন্তার: যশোরে ২০২৫ সালে ৫০-এর বেশি মানুষ এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছেন। যশোর সিভিল সার্জন মো. মাসুদ রানা জানান আক্রান্তদের মধ্যে স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তাঁর ভাষ্য, “এই বয়সে সচেতনতা কম, কৌতূহল বেশি, যা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের দিকে ঠেলে দেয়।” 


জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে ইনজেক্টেবল ড্রাগ ব্যবহারের সময় একই সুচ ব্যবহার, কনডম ছাড়া যৌনসম্পর্ক, একাধিক সঙ্গী ও সঙ্গীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজানা থাকা ইত্যাদি ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন স্বাস্থ্যের খোলামেলা আলোচনার অভাবও বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। 


ইউএনএইডস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সায়মা খান বলেন, “অবিবাহিত আক্রান্তদের বড় অংশের বয়স ২৫ বছরের নিচে। এই বয়সে অনেকেই রোমাঞ্চ ও ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতায় পড়ে, সচেতনতার অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে জড়িয়ে পড়ে।” 


একজন এনজিও কর্মী রাসেল আহমেদ (ছদ্মনাম) বলেন, “অল্প বয়সীরা ঝুঁকির মাত্রা বোঝে না। কনডমসহ সুরক্ষা নিয়ে সামাজিক ট্যাবু ভাঙা জরুরি।” 


বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদিও এইচআইভি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়, নিয়মিত চিকিৎসা নিলে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে যায়। তবে সামাজিক ভয় ও লজ্জার কারণে অনেক তরুণ দেরিতে পরীক্ষা করান বা চিকিৎসা শুরু করেন। 


মনস্তত্ত্ববিদ অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “টেকنالজি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে তরুণদের আচরণ বদলাচ্ছে। সচেতনতার অভাব ও যৌনতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলেও পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।” 


বিশেষজ্ঞদের মতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্কুল পর্যায়ে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা, ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ নিয়ে খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা উচিত। 

ads

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ