হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ানোর পেছনে উচ্চ কোলেস্টেরল বর্তমানে একটি বড় স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ। কোলেস্টেরল মূলত মোমের মতো একধরনের চর্বিজাতীয় উপাদান, যা শরীরের কোষ গঠন, হরমোন নিঃসরণ এবং ভিটামিন–ডি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল—বিশেষ করে LDL বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল—স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ভাল খবর হলো, কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ও গবেষণাভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে কোলেস্টেরল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত এমন সাতটি কার্যকর কৌশল হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে, LDL কমায় এবং HDL বা ‘ভালো’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।
১. ধনে বীজ
ধনে বীজ শুধু রান্নার জন্য নয়, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে এর এক্সট্র্যাক্ট LDL কমাতে এবং HDL বাড়াতে সহায়তা করে। ধনে বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন রক্তে চর্বি প্রক্রিয়ায় কার্যকর। প্রতিদিন সকালে ধনে বীজের পানি পান বা সরাসরি বীজ চিবিয়ে খাওয়া কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে।
২. ফ্ল্যাক্সসিড (আলসের বীজ)
ফ্ল্যাক্সসিডে প্রচুর ফাইবার ও ওমেগা‑৩ (ALA) থাকে, যা LDL কমায় এবং রক্তনালীর প্রদাহ কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। স্মুদি, সেরিয়াল বা বেকড খাদ্যে ফ্ল্যাক্সসিড অন্তর্ভুক্ত করা একটি সহজ এবং প্রাকৃতিক উপায়।
৩. আঙুর বীজ এক্সট্র্যাক্ট
আঙুর বীজের পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, রক্তনালীকে শক্তিশালী রাখে এবং LDL অক্সিডেশন কমিয়ে কোলেস্টেরল-সংক্রান্ত ক্ষতি প্রতিরোধ করে। নিয়মিত ব্যবহার LDL ও মোট কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৪. গ্রিন টি (সবুজ চা)
গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন LDL কমাতে এবং মোট কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রতিদিন কয়েক কাপ চিনি ছাড়া গ্রিন টি পান করলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আসে।
৫. দারচিনি
দারচিনি শুধু স্বাদের জন্য নয়; এটি LDL, মোট কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে। HDL বাড়াতেও দারচিনির ভূমিকা রয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ গ্রাম গ্রহণ করা নিরাপদ।
৬. হলুদ (কুরকুমিন)
কুরকুমিন প্রদাহ কমায়, লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং ধমনী ব্লক রোধে সাহায্য করে। প্রতিদিন খাবারে, দুধ বা চায়ে মিশিয়ে হলুদ গ্রহণ LDL ও মোট কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকর।
৭. কাঁচা রসুন
গবেষণা দেখিয়েছে, প্রতিদিন কাঁচা রসুনের ব্যবহার LDL ও মোট কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। রসুনকে সরাসরি খাবারে, চাটনি বা তড়কা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। রসুন খাওয়ার আগে ২–৩ মিনিট চাপ দিয়ে রাখলে উপকার আরও বৃদ্ধি পায়।
এই ৭টি প্রাকৃতিক কৌশল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। তবে যেকোনো সাপ্লিমেন্ট বা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে এগুলো মিলিয়ে ব্যবহার করলে হার্ট ও রক্তনালীর স্বাস্থ্য দীর্ঘমেয়াদি রক্ষা পাওয়া যায়।







