চলতি বছর ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। এর আগে টিকিটের মূল্য প্রকাশ করে সমালোচনার মুখে পড়েছিল ফিফা, কারণ দাম ছিল আগের যেকোনো আসরের তুলনায় বেশি। তবে সমালোচনার মাঝেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো জানিয়েছেন, টিকিট বিক্রিতে পাওয়া যাচ্ছে “অবিশ্বাস্য” সাড়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১০৪টি ম্যাচের সব টিকিটই নাকি ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।
ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে উন্মাদনা যে কতটা তুঙ্গে, তার এক চমকপ্রদ পরিসংখ্যান সামনে আনলেন ফিফা সভাপতি। তার দাবি, আসন্ন আসরের টিকিটের জন্য যে পরিমাণ আবেদন জমা পড়েছে, তা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন গুণের সমান!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্ট থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে CNBC-কে ইনফান্তিনো বলেন, প্রায় ৭০ লাখ টিকিটের বিপরীতে মাত্র চার সপ্তাহে জমা পড়েছে ৫০৮ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি ৮০ লাখ আবেদন। তার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে শুরু হওয়া মূল বিক্রয়পর্বে ২০০টিরও বেশি দেশ থেকে আবেদন এসেছে। তবে The New York Times জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিপুল আবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকদের একাংশ। তাদের সন্দেহ, বিপুলসংখ্যক আবেদন ‘বট’ বা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এসেছে কি না। ফিফা অবশ্য এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, প্রতিটি আবেদনই “স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা হয়েছে।”
ইনফান্তিনো প্রথমবারের মতো টিকিট বিক্রির পরিসংখ্যান দিলেও কোন ম্যাচে কত আবেদন পড়েছে, তার বিস্তারিত জানাননি। তার বক্তব্য, “প্রতিটি ম্যাচই ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।” তবে পরে ফিফার একটি সূত্র স্পষ্ট করে জানায়, তিনি মূলত বোঝাতে চেয়েছেন—সব ম্যাচের টিকিটই বিক্রি হয়ে যাবে বলে তারা আশা করছে। কিছু টিকিট শেষ মুহূর্তের বিক্রির জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
“এ রকম কিছু আমরা আগে কখনও দেখিনি, অবিশ্বাস্য,” বলেন ইনফান্তিনো। তিনি জানান, এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের সমাপ্তি পর্যন্ত চলা শেষ মুহূর্তের বিক্রির জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক টিকিট রাখা হয়েছে। তুলনা হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ থেকে ১৮ কোটি। সেই হিসাবে তার দাবি সত্য হলে, আবেদনসংখ্যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন গুণের কাছাকাছি।
এদিকে সমর্থক সংগঠনগুলো টিকিটের মূল্যকে “অতিরিক্ত” বলে সমালোচনা করেছে। পুনঃবিক্রয় সাইটগুলোতেও ইতোমধ্যে রেকর্ড দামে টিকিট বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে ইনফান্তিনো বলেন, “আমার মনে হয় এটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজন হওয়ার কারণেই এমন হচ্ছে। সবাই বিশেষ কিছুর অংশ হতে চায়। টিকিটের দাম নির্ধারিত আছে, তবে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ নামে একটি ব্যবস্থা আছে, অর্থাৎ দাম বাড়তেও পারে, কমতেও পারে। আপনারা অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম বা সেকেন্ডারি মার্কেটে টিকিট পুন:বিক্রি করতে পারেন, ফলে দাম বাড়তে পারে। এটাই আমাদের বাজার ব্যবস্থার অংশ।”
প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি হতে পারে বলে ধারণা দিচ্ছেন ইনফান্তিনো। তার ভাষ্য, এই অর্থের প্রতিটি ডলার ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে।
অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও আশাবাদী ফিফা সভাপতি। তার মতে, বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে পর্যটন, হোটেল-রেস্তোরাঁ খাত এবং নিরাপত্তা বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি প্রায় ৭০ লাখ দর্শক ছাড়াও ২ থেকে ৩ কোটি পর্যটক আকর্ষণ করবে এই আসর, যা তৈরি করবে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার স্থায়ী কর্মসংস্থান।







