আর্কাইভ
ads
logo

জবিতে কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৫ পি.এম
জবিতে কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা

ads

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের দাবিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি বুধবারও অব্যাহত ছিল।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং মন্দির নির্মাণের জন্য যে স্থান প্রস্তাব করা হয়েছিল, সেখানে শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে মঙ্গলবার রাতে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে দেব-দেবীর বিগ্রহ ও পূজাসামগ্রী নিয়ে এসে সেখানে প্রতীকী ‘কেন্দ্রীয় মন্দির’ উদ্বোধন করেন। তারা রাতও সেখানেই কাটান।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শ্রীচৈতন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংঘের সাধারণ সম্পাদক অজয় পাল বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী থাকলেও এখনো কোনো কেন্দ্রীয় মন্দির নেই। এ দাবিতে আমরা বারবার স্মারকলিপি দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপাচার্য স্যার আমাদের জানিয়েছিলেন যে স্থাপনা নির্মাণের জায়গা নেই। কিন্তু আমরা মুক্তমঞ্চের পাশে জায়গা দেখিয়ে দেওয়ার পর সেখানে এখন পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সাহিত্য সম্পাদক তাকরিম আহমেদ বলেন, এই আন্দোলন কোনো একক গোষ্ঠীর নয়, এটি সম–অধিকারের আন্দোলন। সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য উপাসনালয় থাকা একটি মৌলিক অধিকার।

তিনি বলেন, যে স্থানে মন্দির নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেখানে শৌচাগার নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জকসুর পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন বলেন, ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে সব শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন। তাই প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। অনেক আগেই এখানে একটি কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মিত হওয়া উচিত ছিল।

একই সংগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্য জাহিদ হাসান বলেন, প্রশাসন আগে বলেছিল জায়গা নেই, অথচ এখন সেই প্রস্তাবিত স্থানেই অন্য স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে—এটি হতাশাজনক।

সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী অনন্ত বিশ্বাস বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণে দীর্ঘদিন আমরা আন্দোলন করেছি। প্রশাসন বলে, “এখানে ছোট ক্যাম্পাস, জায়গা হবে না। তোমাদের জন্য দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।” তাহলে সে জায়গায় এখন শৌচাগারের নির্মাণ কীভাবে হয়?’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি মানা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দেবেন।



ads

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ