আর্কাইভ
ads
logo

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে শিক্ষকসহ আহত ১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৩ পি.এম
শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে শিক্ষকসহ আহত ১৬

ছবি: সংগৃহীত

ads

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্তঃবিভাগীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন ‘স্লেজিং’-কে কেন্দ্র করে লোকপ্রশাসন ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষকসহ কমপক্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষকও শিক্ষার্থীদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালককে প্রধান করে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

আহত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী, প্রভাষক আব্দুল বাসিত, বাংলা বিভাগের জাহাঙ্গীর আলম এবং সহকারী প্রক্টর ওমর ফারুক। অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী ও আব্দুল বাসিত মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে আহত হয়েছেন বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মাহবুবুর রহমান, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সোহানুর রহমান, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শাকিল শাহরিয়ার, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নওশাদ খান, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. রাহুল এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের যশমন্ত মল্লিক। তাদের মধ্যে দু’জনকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন।

অন্যদিকে, লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের রেদুয়ান করিম, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাজিদ আবরার, ফারদিন ইসলাম ও মাহফুজ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নোহান ইমতিয়াজ ও ইহসানুল হক মিলন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাজিদ ও ফারদিনকে মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রত্যক্ষদর্শী, ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষার্থীদের বরাতে জানা যায়, ফাইনাল ম্যাচের প্রথম ইনিংস শেষে বাংলা বিভাগ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্লেজিং এবং বাগবিতণ্ডা বেড়ে যায়। প্রায় ২০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর খেলা পুনরায় শুরু হলেও বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা লোকপ্রশাসন বিভাগের এক ফিল্ডারকে স্লেজিং করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রায় দেড় ঘণ্টা উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলার পর প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, “আমি মাঠে ছিলাম। আমাদের এক খেলোয়াড়কে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাজেভাবে স্লেজিং করে। পরে তাকে মারধর শুরু করলে আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেখানে যায়। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি বাধে। আমি ঠেকাতে গেলে একজন আমার চোখে ঘুষি মারে।”

বাংলা বিভাগের প্রধান রেজাউল ইসলাম বলেন, “লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরাই দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এসে আক্রমণ করেছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা আগে মাঠে যায়নি। আগে থেকেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছিল।”

প্রক্টর মোখলেসুর রহমান বলেন, “প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। আমাদের দুই সদস্যও আহত হয়েছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক এবং ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি এছাক মিয়া বলেন, “একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্লেজিংয়ের জেরে সংঘর্ষ হয়। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।”



ads

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ