ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবারের ওপর হামলা এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোটার ও সমর্থকদের ওপর নির্বাচনী সহিংসতা, হুমকি ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিটি হামলা ও হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার দাবি করেন।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, “নির্বাচনের পর মূলত দুই ধরনের ঘটনা ঘটছে। একদিকে বিএনপি প্রার্থী পরাজয়ের দায় অন্য প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ওপর চাপিয়ে দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে যেখানে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, সেখানে জামায়াত ও এনসিপি প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। শিক্ষার্থীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন, এমনকি নয় বছরের শিশুও হুমকিমুক্ত নয়।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের পর বিরোধী ও সরকারি দল দায়িত্বশীল আচরণ করবে—এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৬৩টি আসন পেয়েছিল, এত বড় বিজয়ের পরও এ ধরনের হামলার খবর তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায়নি। এবার নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে।”
ফরহাদ অভিযোগ করেন, “দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য আসছে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপও দেখা যাচ্ছে না। আমরা চাই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জোটের নেতারা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা ও হামলার রাজনীতি পুনরায় চালু না করেন। আমরা নতুন করে সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চাই না। যদি হামলা অব্যাহত থাকে, শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।”
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে, যা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রত্যাশার প্রতিফলন। নির্বাচনের ফল দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্বাচনের পর ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার নথি সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং তা গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের পর সহিংসতা, হামলা ও হুমকির ঘটনায় নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। দায়িত্বশীল মহলকে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আমরা আশ্বস্ত করছি—আপনারা কাউকে ভয় পাবেন না। আমরা ইতিমধ্যেই ডাকসুর পেজে নির্দেশনা দিয়েছি এবং আইন ও মানবাধিকার সম্পাদককে অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। হুমকি প্রদানকারীর বিরুদ্ধে দেশীয় আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”







