বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা মাপার সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালটি সম্ভবত বিশ্ব ইতিহাসের চারটি সবচেয়ে উষ্ণ বছরের মধ্যে একটি হবে — এমন সতর্ক বার্তা দিয়েছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা-র গবেষকরা।
পরিবেশ সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ক্লাইমেটডাটা.সিএ-তে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এই পূর্বাভাস জানানো হয়েছে।
বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব (১৮৫০-১৯০০) সময়ের তুলনায় ১.৩৫ থেকে ১.৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, আর প্রায় ১২ % সম্ভাবনা আছে যে গড়ে তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকতে পারে না — যা দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উদ্বেগজনক।
গবেষকরা বলছেন, কয়লা, তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানী পোড়ানোর ফলে কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং এই বায়ু-জ্বালানি কার্যক্রমই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মূল চালিকা শক্তি। গত কয়েক বছর ধরেই এল নিনো-এর মত তাপ প্রবাহের ঘটনা উষ্ণতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্ব উষ্ণায়ন কমাতে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গড় তাপমাত্রা রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও, বিজ্ঞানীরা ২০২৬-এর এই সম্ভাব্য তাপমাত্রার বৃদ্ধিকে জলবায়ু ব্যবস্থায় বিরূপ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, যদি তাপমাত্রা আরো বাড়ে, তবে তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও বন্যা-র ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও মানবজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ধরনের বৈশ্বিক উষ্ণতার ধারা রোধে জ্বালানি-দক্ষ প্রযুক্তি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্রয়োজন — এসবেই বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি এখন বেশি রাখা হচ্ছে।







