জলবায়ু পরিবর্তনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। নগরবাসীর শ্বাসেও মিলছে বিষাক্ত কণা। টানা কয়েক দিন ধরে রাজধানী ঢাকার বাতাস রয়েছে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে। বুধবারও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি; বরং বৈশ্বিক দূষণ তালিকায় শীর্ষের দিকেই অবস্থান করছে ঢাকা।
আজ বুধবার সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ৩২৬ একিউআই স্কোর নিয়ে ভারতের দিল্লি শীর্ষে রয়েছে। এ মানকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ধরা হয়। একই সময়ে ২৮২ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণিতে পড়ে। তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছে আফগানিস্তানের কাবুল; শহরটির স্কোর ২৭২।
আইকিউএয়ারের সূচক অনুযায়ী, ০ থেকে ৫০ স্কোরকে ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি মানের বায়ু নির্দেশ করে। ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুমান হয় ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’। এ অবস্থায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং অন্যদেরও বাইরের কাজ সীমিত রাখতে বলা হয়।
আর ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে।
সাধারণত একিউআই নির্ধারণে পাঁচ ধরনের দূষক বিবেচনায় নেওয়া হয়—বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)। এসব দূষক মানুষের শ্বাসযন্ত্র, হৃদ্রোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ সব বয়সের মানুষের জন্যই ক্ষতিকর হলেও শিশু, প্রবীণ, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য এর প্রভাব আরও বেশি বিপজ্জনক।







