ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হাইকোর্ট বিভাগে একটি বিশেষ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ৪৯ নম্বর ধারার ক্ষমতাবলে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত একক বেঞ্চ এই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হাইকোর্ট বিভাগের নিয়মিত কার্যতালিকা থেকে জানা যায়, উক্ত বেঞ্চকে সাধারণ দেওয়ানি বিষয়াদির পাশাপাশি নির্বাচনী আবেদনপত্র নিষ্পত্তির এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। ২০০১ সালে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী যেসব আবেদন বা রুল এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত হবে, সেগুলোর শুনানি ও যথাযথ আদেশ প্রদানের দায়িত্বও ন্যস্ত করা হয়েছে এই ট্রাইব্যুনালের ওপর।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্যের নির্বাচিত হওয়ার গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা প্রার্থী নির্বাচনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এই ট্রাইব্যুনালে আবেদন দাখিল করতে পারেন। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ২৯৯টি আসনের মধ্যে অধিকাংশেরই ফলাফল ইতিমধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে এখন থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নির্বাচনী কারচুপি বা অন্য কোনো গুরুতর অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে বিচারিক এই মঞ্চে যাওয়ার আইনি সুযোগ পাবেন।
উল্লেখ্য যে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে সরাসরি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যার পরদিন শুক্রবার ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল চূড়ান্ত করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিজয়ীদের গেজেট জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় আইনগতভাবেই এই নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের আবশ্যকতা তৈরি হয়েছে।







