দীর্ঘ ২০ বছর পর আজ মঙ্গলবার তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করেছে। এবারের মন্ত্রিসভায় নবীন ও প্রবীণ নেতাদের সমন্বয় ঘটিয়ে আকার তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হচ্ছে। এবং সরকারের ব্যয় কমাতে এবং প্রশাসনিক কাজের সমন্বয় বাড়াতে কিছু মন্ত্রণালয় একীভূত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং যোগাযোগ-সংক্রান্ত চারটি মন্ত্রণালয়কে মিলিয়ে একত্র করা হতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের তথ্য মতে, মন্ত্রণালয়গুলো একীভূত করলে ব্যয় কমবে এবং কাজের গতি বাড়বে। দলীয় অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তির সমন্বয়ে এই মন্ত্রিসভা গঠনের চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন নেতৃত্বের বিকাশই সরকারের মূল লক্ষ্য।
আজ সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এরপর বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। শপথগ্রহণের পর নবনির্বাচিত মন্ত্রীরা আগামীকাল সকালেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জিয়া উদ্যান পরিদর্শন করে শহিদদের শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
মন্ত্রিসভায় দলের সিনিয়র নেতাদের অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রজন্মের তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে। এতে প্রশাসনে গতিশীলতা আনা, নীতিনির্ধারণে নতুন ভাবনা এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সহজ হবে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “শপথ নেওয়ার পর স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে, বিশেষ করে রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা মূল চ্যালেঞ্জ।”
প্রকাশিত সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য মন্ত্রীরা শপথের পর বৈঠকে সরকারের দায়িত্ব বণ্টন এবং কার্যক্রমের রূপরেখা ঠিক করবেন। সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন আধুনিক শিক্ষিত নতুন প্রজন্ম, যাদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং হুমায়ুন কবির উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলো থেকেও একাধিক নেতা মন্ত্রিসভায় থাকবেন। সম্ভাব্য মন্ত্রীর পদবী নিয়ে আলোচনায় আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা, যেমন ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহৎ এবং ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠন করে বিএনপি সরকার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে, যেখানে অভিজ্ঞতা ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় দেশের প্রশাসনিক দক্ষতা ও নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।







