ভোট গ্রহণের মধ্যেই রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী হাবিবা বেগমকে ভোটকেন্দ্রের সামনে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে পবার নলখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হাবিবা বেগম মোহনপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। পাশাপাশি তিনি উপজেলা কৃষক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি হাবিবা বেগমকে সজোরে একটি থাপ্পড় মারেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে আবারও তাকে চড় মারা হয়। এরপর তার সঙ্গে থাকা লোকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। একপর্যায়ে আরেক ব্যক্তি হামলাকারীকে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলাকারীর নাম রজব আলী। তিনি পবার হরিয়ান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি।
ঘটনার পর দুই বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে একটি চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায় হাবিবা বেগমকে। সে সময় তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রের সামনে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন এবং ভোট চাইছিলেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আগে প্রচারণায় আসতে না পারলেও যেন তারা তাকে ফুটবল প্রতীকে ভোট দেন।
হাবিবা বেগমের ভাষ্য, তার এই প্রচারণায় বাধা দেন বিএনপি নেতা রজব আলী। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে চড়থাপ্পড় মারা হয়।
হাবিবা বেগমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আকবর হোসেন বলেন, “একজন নারী প্রার্থীর গায়ে এভাবে হাত তোলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। কিন্তু ভোটকেন্দ্রের বাইরের ঘটনা বলে তিনি দায় এড়িয়ে গেছেন। আমরা বিষয়টির বিচার চাইবো।”
ঘটনার পর বিকেল ৪টার দিকে হাবিবা বেগমকে একটি প্রাইভেটকারে করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি জানান, মারধরের পর থেকে তিনি কানে শুনতে পাচ্ছেন না এবং কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে।
ঘটনার সময় বিএনপি নেতা রজব আলীকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে ভোটকেন্দ্রের সামনে উপস্থিত ছিলেন হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, রজব আলী তাদের দলের নেতা হলেও এই ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে, তা তিনি জানেন না। ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের কেউ রজব আলীর ফোন নম্বর দিতেও রাজি হননি।
এ বিষয়ে কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী বলেন, ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে একজন প্রার্থীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার কথা তিনি শুনেছেন। তবে মারধরের কোনো ঘটনা তার জানা নেই। তিনি জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।







