৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে পরীক্ষার্থীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বানান ভুল ও তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
গত বছরের ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতেও ‘গণ-অভ্যুত্থান’, ‘কারণ’, ‘উচ্চারণ’ এবং ‘গণমাধ্যম’-এর মতো শব্দে বানান ভুল ছিল। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ৫০তম বিসিএসেও একই ধরনের ভুল পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
প্রশ্নপত্রে ‘আচরণ’, ‘গবেষণা’, ‘সাধারণ’-এর মতো শব্দে ‘ণ’ এর পরিবর্তে প্রায় সব জায়গায় ‘ন’ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া জানুয়ারি, জ্বালানি, ব্যক্তিগত এবং পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের নামের বানানও সঠিক ছিল না। ‘বাঙালি’ লেখা হয়েছে ‘বাংগালি’, ‘দ্বন্দ্ব’-এর বানানও ভুল ছিল। সবচেয়ে নজরকাড়া ভুল ছিল ৩ নম্বর সেটের ৩০ নম্বর প্রশ্নে ‘সদ্গুণ’ শব্দটি দুটি ভিন্ন বানানে (‘সদগুন’ ও ‘সদগূণ’) ব্যবহৃত হওয়া, যা উভয়ই ভুল। ইংরেজি শব্দ যেমন ‘অ্যালগরিদম’ ও ‘প্ল্যাটফর্ম’-এর বাংলা বানানও সঠিক ছিল না।
শুধু বানানই নয়, তথ্যগত ভুলও লক্ষ্য করা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, ৩ নম্বর সেটের ২১ নম্বর প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছিল—জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (UNFCCC) প্রথম COP কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অপশনে কোপেনহেগেন, প্যারিস, ওয়ারশ ও বন থাকলেও সঠিক উত্তর ‘বার্লিন’ কোন অপশনে ছিল না, যা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
প্রশ্নপত্রের মুদ্রণও অভিযোগের বিষয় হয়েছে। ৮ পাতার প্রশ্নপত্রে ২০০টি প্রশ্ন ৭ পাতায় ছোট ফন্টে ছাপানো হয়েছে। পরীক্ষার সময় স্নায়ুচাপের সঙ্গে এই সংকুচিত ফন্ট অনেক পরীক্ষার্থীর জন্য সমস্যা তৈরি করেছে এবং সময়ও অপচয় হয়েছে।
প্রতি বিষয় জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম প্রথম আলোকে বলেন, “বানান ভুল আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল না হওয়ার জন্য সতর্ক থাকব।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় বানান ও তথ্যগত ভুল প্রিলিমিনারি পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও গাম্ভীর্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। পরীক্ষার্থীরা আরও আশা করেন, ভবিষ্যতে পিএসসি আরও দায়িত্বশীল হয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়নে মনোযোগ দেবেন।







