আর্কাইভ
ads
logo

ঝাঁটা দিয়ে পিঠ চুলকাচ্ছে ‘বিচক্ষণ’ গাভী ভেরোনিকা

বিজ্ঞানীরা বলছেন, গবাদি পশুর সরঞ্জাম ব্যবহারের এটিই প্রথম দালিলিক প্রমাণ।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশকাল: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৮ পি.এম
ঝাঁটা দিয়ে পিঠ চুলকাচ্ছে ‘বিচক্ষণ’ গাভী ভেরোনিকা

ছবি: স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন

ads

অস্ট্রিয়ার এক শান্ত ও নিভৃত জনপদে অবিশ্বাস্য এক ঘটনা নজর কেড়েছে। প্রায় ১০ বছর আগে স্থানীয় এক অর্গানিক খামারি ও পাউরুটি বিক্রেতা লক্ষ্য করেছিলেন, তার পোষা গরু ভেরোনিকা নিজে লাঠি ব্যবহার করে চুলকাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে গরুটি এই কৌশলে আরও দক্ষ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এটি বিশ্বের প্রথম প্রমাণিত উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন জানিয়েছে, ভিয়েনার ইউনিভার্সিটি অফ ভেটেরিনারি মেডিসিনের কগনিটিভ বায়োলজিস্ট অ্যালিস অয়ার্সপার্গ যখন এই আচরণের ভিডিও দেখেন, তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। সহকর্মী আন্তোনিও ওসুনা-মাসকারো সঙ্গে তিনি ‘নোশ ইম গেইল্টাল’ শহরে পৌঁছে ভেরোনিকার আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

ওসুনা-মাসকারো বলেন, ভেরোনিকা অত্যন্ত বন্ধুসুলভ এবং তার মালিক উইটগারের সঙ্গে সম্পর্ক ‘অত্যন্ত গভীর’। গরুটি প্রতিটি চলন্ত গাড়ির দিকে লক্ষ্য রাখে, বোঝার চেষ্টা করে চালকটি কি তার প্রিয় মালিক কিনা। যদি নিশ্চিত হয়, তবে সে আনন্দ প্রকাশ করতে নিজস্ব শক্তি দিয়ে চিৎকার করে।

গবেষকরা ৭০টি ভিন্ন পরীক্ষায় দেখেছেন, ভেরোনিকা মেঝে পরিষ্কারের একটি ঝাঁটা ব্যবহার করে চুলকানোর জন্য সচেতনভাবে টুলের মতো ব্যবহার করছে। বিজ্ঞানীরা সাধারণভাবে টুল ব্যবহারের সংজ্ঞা দেন—প্রাণীকে সচেতনভাবে কোনো বস্তুকে লক্ষ্য পূরণের জন্য কাজে লাগাতে হবে। ভেরোনিকার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সে ঝাঁটার হাতল ও ব্রাশ উভয় দিককে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে চুলকানোর কাজ করছে।

গত ১৯ জানুয়ারি বিশ্বখ্যাত জার্নাল ‘কারেন্ট বায়োলজি’-তে এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়। জার্মানির রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর ফার্ম অ্যানিম্যাল বায়োলজির গবেষক ক্রিশ্চিয়ান নাওরথ মন্তব্য করেছেন, “এটি প্রাণীদের টুল ব্যবহারের একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যা অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য।”

গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, ভেরোনিকা ঝাঁটার শক্ত ব্রাশের দিকটি প্রাধান্য দিয়ে ব্যবহার করলেও মাঝে মাঝে নরম অংশে পৌঁছানোর জন্য হাতলও ব্যবহার করে, যা একটি সুনির্দিষ্ট প্যাটার্নের প্রমাণ। এখন পর্যন্ত এমন একাধিক উদ্দেশ্যে সরঞ্জাম ব্যবহার কেবল শিম্পাঞ্জিদের মধ্যেই দেখা গেছে।

অয়ার্সপার্গ বলেন, “গবাদি পশুর মধ্যে এমন আচরণ সম্ভব তা আমাদের সম্পূর্ণ ধারণার বাইরে ছিল।” গবেষকদের মতে, ভেরোনিকা জন্মগতভাবে অতিবুদ্ধিমান নয়; বরং তার পরিবেশই এই দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হয়েছে। মালিক তাকে লাঠি ও অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে খেলার সুযোগ দিয়েছেন, যা সাধারণ অন্য গরুগুলো পায় না।

গবেষকরা আশা করছেন, ভেরোনিকার কৃতিত্ব অন্যান্য প্রাণীর বুদ্ধিমত্তা পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীদের অনুপ্রাণিত করবে। অয়ার্সপার্গ আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা এতদিন এই প্রাণীদের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দিইনি। হয়তো গরুর টুল ব্যবহার করা অতটা অস্বাভাবিক নয়, বরং আমাদের ধারণা যে গরু বুদ্ধিমান হতে পারে না, সেটাই ভুল।”

ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ