দীর্ঘ ৫৫ বছর পর আবারও মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আর্টেমিস–২’ মিশনের তারিখ ঘোষণা করেছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৬ মার্চ ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বিশালাকৃতির রকেট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে শুরু হবে এই চন্দ্র অভিযান।
মিশনের চারজন নভোচারী চন্দ্রযানে চাঁদের চারপাশে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং চাঁদকে অত্যন্ত কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করবেন। নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তুতির অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে তারিখ সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে, তবে বর্তমানে ৬ মার্চই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নাসা ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ বা সম্পূর্ণ জ্বালানি ভর্তি মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতের পরীক্ষায় রকেটে ৭ লাখ গ্যালনের বেশি তরল জ্বালানি পূর্ণ করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে হাইড্রোজেন লিকের কারণে প্রথম মহড়ায় সমস্যা দেখা দিলেও দ্বিতীয় পরীক্ষায় তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছে। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এক্সে লিখেছেন, “এই সফল পরীক্ষা চাঁদের কক্ষপথে আমেরিকার প্রত্যাবর্তনের পথে বড় অগ্রগতি।”
মিশনের নভোচারীরা হলেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। প্রায় ১০ দিনের এই মহাকাশযাত্রায় তারা প্রথমে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবেন এবং এরপর চাঁদের চারপাশে ‘ফিগার-এইট’ আকৃতির পথে উড্ডয়ন করবেন। তবে এই মিশনে চন্দ্রযান চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে না, কারণ বর্তমান ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযান পৃষ্ঠে অবতরণের জন্য তৈরি নয়।
নভোচারীরা চাঁদের দূরবর্তী পাশ অতিক্রম করার সময় অ্যাপোলো–১৩ মিশনের দূরত্বের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারেন এবং ইতিহাসে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণকারী হিসেবে নিজেদের নাম লিখবেন। নাসা এই অভিযানে চাঁদের কক্ষপথকে ভবিষ্যতের মঙ্গল গ্রহে অভিযানের প্রস্তুতি ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে।
১৯৭২ সালের অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর এটি চাঁদের কক্ষপথে মানুষের প্রথম পদযাত্রা। আর্টেমিস–২ সফল হলে নাসা পরবর্তী ধাপ ‘আর্টেমিস–৩’ নিয়ে কাজ শুরু করবে, যার মাধ্যমে ২০২৭ বা ২০২৮ সালের মধ্যে মানুষ দীর্ঘ ৫৫ বছর পর সরাসরি চাঁদের মাটিতে পা রাখবে।
নাসা এই অভিযানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এমন সময়, যখন চীনও ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সংস্থা মূলত মহাকাশ গবেষণায় নিজের প্রাধান্য বজায় রাখতে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মিশনটি জোরদার করছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড







