আর্কাইভ
ads
logo

ইয়াবা কেলেঙ্কারি: দায়িত্বে অবহেলায় বরখাস্ত আট পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশকাল: ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৭ পি.এম
ইয়াবা কেলেঙ্কারি: দায়িত্বে অবহেলায় বরখাস্ত আট পুলিশ

ads

চট্টগ্রামে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা গায়েব এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইয়াবা উদ্ধারের পর দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে এ বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য আত্মসাৎ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া এবং বৈধ নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন বাকলিয়া থানার এসআই মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার, এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন (বর্তমানে কোতোয়ালি থানায় কর্মরত), এএসআই সাইফুল আলম, মো. জিয়াউর রহমান, মো. সাদ্দাম হোসেন, এনামুল হক, কনস্টেবল মো. রাশেদুল হাসান ভূঞা এবং নারী কনস্টেবল উম্মে হাবিবা।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ গণমাধ্যমকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ৮ ডিসেম্বর রাতে। সেদিন চট্টগ্রাম নগরের নতুনব্রিজ এলাকায় একটি চেকপোস্টে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলসের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল মো. ইমতিয়াজ হোসেনের ট্রলি ব্যাগ থেকে আনুমানিক ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, উদ্ধার করা এসব ইয়াবা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করেন এবং রাত সাড়ে ৩টার দিকে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, ৮ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে ইমতিয়াজ হোসেন দেশ ট্রাভেলসের কক্সবাজার কলাতলী কাউন্টারে গিয়ে ঢাকার টিকিট কাটেন। যদিও টিকিটে চকরিয়া থেকে ওঠার কথা উল্লেখ ছিল, বাস্তবে তিনি বাসে ওঠেন কলাতলী থেকেই। কক্সবাজার থেকে ওঠা যাত্রীদের প্রতি চেকপোস্টে বাড়তি নজরদারি থাকায় তিনি এ কৌশল নেন বলে তদন্তে জানা গেছে। রাত ১০টা ১৫ মিনিটে বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১৬-৪২) ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ইমতিয়াজ ই-১ নম্বর আসনে বসে নিজের পুলিশ আইডি কার্ড সামনের ডি-১ সিটে ঝুলিয়ে দেন, ফলে অন্য যাত্রীরাও জানতে পারেন তিনি একজন পুলিশ সদস্য।

তদন্ত কমিটির একজন সদস্য যুগান্তরকে বলেন, ‘কনস্টেবল ইমতিয়াজ শুরুতে বিষয়টি অস্বীকার করছিল। তবে যুগান্তরের সরবরাহ করা অডিও ও তথ্য উপস্থাপন করার পর তিনি ভেঙে পড়েন এবং কোনো যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেনি। পরে ইয়াবাসহ আটক হওয়ার পুরো ঘটনা খুলে বলেন।’

এদিকে ইয়াবা গায়েবের সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আদালতের নজরেও আসে। মঙ্গলবার স্বপ্রণোদিত হয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন মাহমুদ একটি পৃথক ‘মিস কেস’ নথিভুক্ত করেন। আদালত এ ঘটনায় তদন্ত করে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) কে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাও আলাদাভাবে তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ