ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমী ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন এবং এখনও দেশে ফেরেননি। এ সময়ে তাঁর স্বামী, জনপ্রিয় অভিনেতা ওমর সানীও যুক্তরাষ্ট্রে যাননি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মিডিয়ায় এবং ভক্তদের মধ্যে দাম্পত্য নিয়ে গুঞ্জন ছড়ায়।
কিন্তু এসব গুঞ্জন বারবার উড়িয়ে দিয়েছেন সানী। সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। গুঞ্জন ছড়ানো মানুষদের ‘পাগল’ হিসেবে উল্লেখ করে সানী বলেন, এমন প্রশ্ন শুনে তিনি বিরক্ত বোধ করেন। কিছু মানুষ তাঁকে ডিভোর্স লেটার দেখানোরও দাবি করেছেন।
ওমর সানী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মৌসুমীর যুক্তরাষ্ট্র যাত্রার পেছনে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির প্রতি কোনো অভিমান নয়। মূল কারণ হলো পরিবারের দেখাশোনা। তিনি বলেন, “মৌসুমী তিন বোনের মধ্যে বড়। ইরিন আটলান্টা এবং স্নিগ্ধা ফ্লোরিডায় থাকেন। আমার শাশুড়ি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, তাই তাকে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সব সময় সবাই ব্যস্ত থাকায়, শাশুড়িকে দেখভাল করা কঠিন ছিল। তাই মৌসুমী যুক্তরাষ্ট্র যান।”
ওমর সানী জানান, তিনি নিজেও ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু ভিসা পাননি। পরবর্তীতে আগ্রহও দেখাননি। তিনি বলেন, “সবকিছু বিবেচনা করে মৌসুমী সঙ্গে পরামর্শ করে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘দেখো, বাবা মারা গেছে, শ্বশুর-শাশুড়িও চলে গেছে। আমি যদি মায়ের পাশে না থাকতে পারি, তাহলে রোজ কিয়ামতের দিন কী জবাব দেব? প্রায় ২৯ বছর সংসার করেছি একসাথে, আমাকে যেতে দাও।’ এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মা যতদিন বেঁচে আছেন, আমরা তার পাশে থাকব।”
সানী আরও জানান, তখনই তাদের মেয়ে ফাইজা পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। “আমরা সবসময় সন্তানদের দেখভাল করেছি। বড় হয়ে গেলে তাদের একা ছেড়ে দেওয়া সহজ নয়। মৌসুমী সেখানে মাকে দেখবেন এবং মেয়েকেও।”
শেষে ওমর সানী বলেন, “মৌসুমী সেখানে অনেক কষ্ট করছেন—মায়ের জন্য কষ্ট করছেন, সন্তানের জন্য কষ্ট করছেন। আমাদের একটি ফ্যামিলি গ্রুপ আছে, প্রতিদিন কথা হয়। আশা করছি খুব দ্রুত সামনাসামনি দেখা হবে।







