ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা এবং বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে বড় ধরনের আইনি ও সামাজিক সংকটে পড়েছেন। প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আইনগত বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার আগেই তিনি মডেল রিতিকা গিরিকে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বারাণসীর উত্তরপ্রদেশে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন করেছেন হিরণ; যদিও তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবাহের ছবি পোস্ট করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন, এরপর নেটিজেনদের কঠোর প্রতিক্রিয়ার কারণে তা দ্রুত মুছে ফেলেন।
প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা দাবি করেন, তাদের মধ্যে এখনো কোনো আইনি বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স হয়নি। তিনি বলেন, “তাকে বা তার পরিবারকে কোনো কিছু না জানিয়েই হিরণ এই দ্বিতীয় বিয়ের পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা আইন ও নৈতিকতা কোনো দিক থেকেই গ্রহণযোগ্য নয়।” অনিন্দিতা প্রশ্ন তুলেছেন কেন এমন গোপনীয়তায় বারাণসীতে বিয়ে সম্পন্ন করা হলো এবং জানিয়েছেন তিনি এই বিয়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
অনিন্দিতা আরও অভিযোগ করেছেন, গত এক বছর ধরে হিরণ তাদের একমাত্র মেয়ের কোনো খোঁজখবর রাখছেন না। তিনি জানান, তাদের কিশোরী কন্যা বাবা-এর দ্বিতীয় বিয়ের খবর শোনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থাও খারাপ হচ্ছে। বর্তমানে মেয়েটি নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
এ পর্যন্ত এই বিষয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অনিন্দিতার অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো তার রাজনৈতিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতীয় আইনের আলোকে, প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন এবং বৈধ বিচ্ছেদ না হলে দ্বিতীয় বিয়ে করা দণ্ডনীয় অপরাধ, তাই এখন হিরণের ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।







