আর্কাইভ
ads
logo

জোরালো হচ্ছে সংকট, চলতি বছরে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় শত কোটি ডলার

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশকাল: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩০ এ.এম
জোরালো হচ্ছে সংকট, চলতি বছরে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় শত কোটি ডলার

ads

রপ্তানি আয়ে গতি না থাকায় নতুন অর্থবছরের শুরুতেই বাংলাদেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি আবারও বাড়ছে। আমদানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি আর রপ্তানির সীমিত প্রবৃদ্ধি মিলিয়ে অর্থনীতিতে চাপ স্পষ্ট হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) দেশের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫.৬৩ শতাংশ বেশি। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট-বিওপি) সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ তথ্য জানানো হয়। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য বাণিজ্যের ঘাটতি ছিল ৭৯৩ কোটি ৭০ লাখ (৭.৯৩ বিলিয়ন) ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, জুলাই-নভেম্বর সময়ে দেশে মোট আমদানি হয়েছে ২ হাজার ৭৫৯ কোটি ৪০ লাখ (২৭.৫৯ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য, যা এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় ৬.১ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই পাঁচ মাসে আমদানির পরিমাণ ছিল ২৬.০১ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, একই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৮.১৮ বিলিয়ন ডলার—যা আগের অর্থবছরের তুলনায় মাত্র ০.৬ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১৮.০৭ বিলিয়ন ডলার। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানই চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতিকে বাড়িয়ে ৯.৪১ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে গেছে।

পেছনের কয়েক বছরের চিত্রেও ওঠানামা দেখা যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ৯ শতাংশ কমে নেমেছিল ২ হাজার ৪৫ কোটি (২০.৪৫ বিলিয়ন) ডলারে। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ২ হাজার ২৪৩ কোটি (২২.৪৩ বিলিয়ন) ডলার এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ২ হাজার ৭৩৮ কোটি (২৭.৩৮ বিলিয়ন) ডলার। চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক হিসাবেও ঘাটতির প্রবণতা স্পষ্ট। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়া এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ ঘাটতিতে পড়ছে।

চলতি হিসাবের ভারসাম্য (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স):

চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত মানে নিয়মিত লেনদেনে ঋণের প্রয়োজন নেই, আর ঘাটতি হলে তা পূরণে ঋণ নিতে হয়। উন্নয়নশীল দেশের জন্য উদ্বৃত্ত থাকা কাঙ্ক্ষিত হলেও বর্তমানে দেশের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স ঋণাত্মক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর শেষে চলতি অর্থবছরে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ৫৭ কোটি ডলার।

ওভারঅল ব্যালান্স:

সামগ্রিক লেনদেনে (ওভারঅল ব্যালান্স) দেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো। নভেম্বর শেষে এই সূচক ৭৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ২৫৪ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৩০৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। আগের বছর একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ১১৪ কোটি ডলার—প্রবৃদ্ধি ১৭ শতাংশ।

এফডিআই বেড়েছে:

দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে বাংলাদেশ ৪০ কোটি ডলারের এফডিআই পেলেও চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে ৬৫ কোটি ডলারে উঠেছে।
তবে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের চিত্র নেতিবাচক। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে পোর্টফোলিও বিনিয়োগে নিট হিসাবে প্রায় ৭ কোটি ডলার দেশ থেকে বেরিয়ে গেছে। আগের অর্থবছরে এই খাতে নিট বিনিয়োগ ছিল (ঋণাত্মক) ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

ads

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ