চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ফাটাপাড়া এলাকায় ককটেল বানানোর সময় বিস্ফোরণে দুইজনের মৃত্যু এবং তিনজন আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকার অনেক মানুষ এখন ঘরছাড়া। যে বাড়িতে ককটেল তৈরি করা হচ্ছিল, সেখানে পালিয়ে থাকা ব্যক্তিদের অধিকাংশই কালামের বংশের লোক।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের বরাতে
জানা গেছে, কালামের ভাই দুলালের নির্দেশে
ককটেল তৈরি করার কাজ
চলছিল। কয়েক বছর আগে
দুলাল আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিলেন। কিন্তু সীমান্তনির্ভর অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে
তিনি অর্থ–সম্পদের মালিক
হন। তিনি এলাকার ‘মাদক
সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত এবং ইউনিয়ন পরিষদের
(ইউপি) বরখাস্ত ও পলাতক চেয়ারম্যান
শহীদ রানা ওরফে টিপুর
ঘনিষ্ঠ। আগে তিনি আওয়ামী
লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, পরে নির্বাচনের আগে
জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
স্থানীয় জামায়াত নেতা লতিফুর রহমানও
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “জাহান্নামের
পথ ছেড়ে জান্নাতের পথে
আসা দুলাল এখন নিজেই তো
জাহান্নামের পথে গেলেন। তাঁর
খেটে খাওয়া ভাই কালামসহ বংশের
লোকজনের জীবনও এখন জাহান্নাম বানিয়ে
দিয়েছেন। তাঁর বংশের শতাধিক
মানুষ এখন ঘরছাড়া। তাদের
অনেকেই কৃষক। বোরো ধানের জমিতে
বালুমাটির এলাকায় প্রতিদিন পানি দিতে হয়।
এখন জমিগুলো পানিশূন্য থাকবে। এলাকার পরিস্থিতি এখন থমথমে।”
একই সঙ্গে স্থানীয় জামায়াত নেতা উল্লেখ করেছেন,
সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ রানা অনুপস্থিত
থাকায় দুলাল নিজে নেতা হওয়ার
চেষ্টা করছিলেন। এ জন্য প্রতিপক্ষের
নেতা–কর্মীদের বাড়িতে হামলা ও ত্রাস সৃষ্টির
উদ্দেশ্যে ককটেল বানানো হচ্ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিপক্ষের বাড়ি–বাড়ি হামলা
চালানো হওয়ার কথা ছিল।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ভোটের দিন রাতে ফাটাপাড়ায়
বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি ও ইউপি সদস্য
নাসির উদ্দিনসহ কয়েকজনের বাড়িতে জামায়াতের বিজয় মিছিল থেকে
ইটপাটকেল ছোড়া হয়েছিল। পরে
উভয়পক্ষের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। এই
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির লোকজনের ওপর হামলার জন্য
ককটেল তৈরি করা হচ্ছিল।
সারা রাত ককটেলগুলো ব্যাগে
ভরে ওয়ার্ডে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
মামলার তদন্তকারী সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, “এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ককটেল বানানো হচ্ছিল। ব্যাগে রাখা অনেকগুলো ককটেলের একসঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরের দেয়াল ধসে গেছে, টিনের চালও উড়ে গেছে।”







