রাজশাহী নগরীতে এক নারী যাত্রীর গলায় ছুরি ধরে পাসপোর্ট, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে এক রিকশাচালকের বিরুদ্ধে। রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে রুয়েট সংলগ্ন ফ্লাইওভারের নিচে এই দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী রিপা বেগম রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠ কিসমত কুখন্ডির বাসিন্দা।
ছিনতাইয়ের শিকার রিপা বেগম জানান, জীবনসংগ্রামের তাগিদে তিনি আবারও সৌদি আরব যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই লক্ষ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে ঢাকা গিয়েছিলেন। আঙুলের ছাপ দেওয়ার তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে যাওয়ায় তিনি রাজশাহী ফিরে আসেন। ট্রেন থেকে নেমে ভদ্রা মোড় থেকে বাড়ি ফেরার জন্য একটি রিকশা ভাড়া করেন। রিকশায় ওঠার সময় চালক তাকে অভয় দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমারও মা-বোন আছে, ভয় পাবেন না।’ কিন্তু রুয়েট ফ্লাইওভারের নিচে নির্জন স্থানে পৌঁছামাত্রই চালক রিকশা থামিয়ে তার গলায় ছুরি ধরে ব্যাগ ও অন্যান্য সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। এমনকি তাকে পাশের জঙ্গলে টেনে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। ওই সময় পুলিশের একটি টহল গাড়ি দেখতে পেয়ে চালক দ্রুত রিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।
রিপা বেগম আরও জানান, তিনি এর আগে দুই বছর সৌদি আরবে ছিলেন। আট মাস আগে দেশে ফিরে ঋণের টাকা শোধ করে এখন প্রায় নিঃস্ব। অভাবের তাড়নায় তার ছেলে এইচএসসি পরীক্ষাও দিতে পারেনি। অসহায় মা ও ছেলেকে নিয়ে বাঁচার তাগিদে আবার বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় তার পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র হারিয়ে যাওয়ায় বিদেশযাত্রা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় তার ব্যাগটি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও নগদ টাকা পাওয়া যায়নি। ব্যাগে শুধু একটি চাদর অবশিষ্ট ছিল।
ঘটনার বিষয়ে নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, টহল পুলিশ ব্যাগ উদ্ধার করেছে বলে তিনি শুনেছেন, তবে ঘটনাস্থলটি চন্দ্রিমা থানার অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী নারী লিখিত অভিযোগ দিলে তারা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।







