আর্কাইভ
ads
logo

দেবিদ্বারে সন্তান বিক্রি করে অপহরণের নাটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ১ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এ.এম
দেবিদ্বারে সন্তান বিক্রি করে অপহরণের নাটক

ছবিঃ সংগৃহীত

ads

কুমিল্লার দেবিদ্বারে নিজের ২৭ দিন বয়সী কন্যাশিশুকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করার পর অপহরণের নাটক সাজানোর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। তথ্য-প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনের পর শিশুটিকে উদ্ধার করে পুনরায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আকলিমা বেগম তার শিশু কন্যা হাফসার চিকিৎসার অজুহাতে দেবিদ্বার উপজেলা সদরে যান। সেখানে এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে শিশুটিকে ৫০ হাজার টাকায় হস্তান্তর করেন। এরপর ঘটনা আড়াল করতে তিনি বুড়িচং উপজেলার সাবের বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে অচেতন হওয়ার অভিনয় করে ‘সন্তান ছিনতাই’ হয়েছে বলে প্রচার করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দেবপুর ফাঁড়ি পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সন্তান হারানোর খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ নিবিড় তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ ৩৫ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে শুক্রবার রাতে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। দত্তক নেওয়া দম্পতি আবু সাঈদ ও তার স্ত্রী নিজেরাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটিকে ফেরত দেন। আবু সাঈদ জানান, শিশুটিকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে অপহরণের খবর দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা বুঝতে পেরে তারা আইনি ঝামেলার এড়াতে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

অভিযুক্ত মা আকলিমা বেগম দেবিদ্বার পৌরসভার বড়আলমপুর গ্রামের দিনমজুর কামাল হোসেনের স্ত্রী। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নিজের ভুল স্বীকার করে আকলিমা জানান, হাসপাতালে জনৈক এক নার্স তার সন্তানের শারীরিক সমস্যার ভয় দেখিয়ে তাকে বিক্রির প্ররোচনা দিয়েছিলেন। তবে শিশুটির পিতা কামাল হোসেন বলেন, অভাব থাকলেও সন্তান পালনের সামর্থ্য তার ছিল এবং স্ত্রীর এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধকার ছিলেন।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানান, মা স্বেচ্ছায় সন্তান বিক্রি করলেও লোকলজ্জার ভয়ে অপহরণের গল্প সাজিয়েছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর আমরা নিশ্চিত হই যে কোনো অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে শিশুটিকে তার মা-বাবার জিম্মায় রাখা হয়েছে।

ads

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ