চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হাফিজুর রহমান (৫৫) নামে এক জুয়েলারি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহত হাফিজুর রহমান জীবননগর শহরের ‘ঢাকা জুয়েলার্স’-এর মালিক এবং স্থানীয় জামায়াত নেতার বড় ভাই। শনিবার ইফতারের পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসাদাহ কামিল মাদরাসা গেটের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুনরায় বাজারে জড়ো হলে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। এতে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান ও তার বড় ভাই হাফিজুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে হাফিজুর রহমানকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান। নিহতের ছোট ভাই মফিজুর রহমান বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
এই সংঘর্ষে জামায়াত ও বিএনপির আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। জামায়াতপন্থীদের মধ্যে খাইরুল ইসলাম ও সোহাগ বর্তমানে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, বিএনপির আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার, সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেহেদী হাসান ও তার বাবা জসীম উদ্দিন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহের সুরতহালসহ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু বিচারের দাবি তুলেছেন। এদিকে, হত্যার প্রতিবাদে রোববার সকালে জীবননগর শহরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে জেলা জামায়াত।







