আর্কাইভ
ads
logo

জামায়াত জোটে কত দিন? এনসিপির সাধারণ সভায় প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৩ পি.এম
জামায়াত জোটে কত দিন? এনসিপির সাধারণ সভায় প্রশ্ন

ads

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আর কত দিন থাকবে, এ প্রশ্ন ঘিরে দলটির সাধারণ সভায় তৈরি হয়েছে আলোচনা ও উত্তেজনা। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানাননি এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুর ১২টা থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অংশ নেওয়া একাধিক নেতা জানান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারোয়ার (নিভা) আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তাঁরা আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। একপর্যায়ে সামান্তা শারমিন সরাসরি প্রশ্ন তোলেন—জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য কত দিন বহাল থাকবে? জবাবে শীর্ষ দুই নেতা সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, সদ্য সংসদ গঠিত হয়েছে, এনসিপি বিরোধী দলে রয়েছে এবং সামনে সংসদ অধিবেশন—এ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

সভায় এনসিপি থেকে নির্বাচিত এক সংসদ সদস্য প্রশ্ন তোলেন, সামান্তা শারমিন, নাহিদা সারোয়ারসহ কয়েকজন কেন এখনো জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করছেন। সভা সূত্রে জানা যায়, এর জবাবে সামান্তা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জোট গঠনের আলোচনা চলাকালে তাঁরা শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন—এই জোটে গেলে তাঁরা নির্বাচন করবেন না এবং প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করবেন। নেতৃত্ব তখন তাঁদের জানিয়েছিল, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা তাঁদের রয়েছে।

১১–দলীয় ঐক্যে এনসিপির ৩০ জন প্রার্থী ছিলেন উল্লেখ করে সভায় কেউ কেউ অভিযোগ করেন, জামায়াত তাঁদের সবাইকে সমানভাবে সহায়তা করেনি। পাশাপাশি দলের কাউন্সিল কবে হবে, রাজনৈতিক পর্ষদ ও নির্বাহী কাউন্সিল কবে পুনর্গঠিত হবে—এসব প্রশ্নও ওঠে। তবে এসব বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি।

জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার আগে এনসিপি ৩০০ আসনে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল এবং সাধারণ সভায় সে সিদ্ধান্তও হয়েছিল। কিন্তু পরে নির্বাহী কমিটির আলোচনায় জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো—এই প্রশ্নের জবাবে শীর্ষ নেতৃত্ব জানায়, আলাদা সাধারণ সভা না হলেও অনেক নেতা ব্যক্তিগতভাবে জোটের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে এনসিপি থেকে অন্তত ১৭ জন নেতা পদত্যাগ করেন। তাঁদের ফেরানোর কোনো উদ্যোগ আছে কি না জানতে চাইলে নেতৃত্ব জানায়, আনুষ্ঠানিক কোনো উদ্যোগ নেই; তবে কেউ স্বেচ্ছায় ফিরতে চাইলে দলের দরজা খোলা।

সাধারণ সভা নিয়ে কথা বলতে এনসিপির শীর্ষ তিন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে সামান্তা শারমিন বলেন, “সাধারণ সভায় আমরা দলের নির্বাচনসংক্রান্ত পর্যালোচনা করেছি। যেহেতু দলে ১১–দলীয় ঐক্যের বিষয়ে বিরোধিতা আছে, তাই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা প্রশ্ন করেছি। নেতৃত্বের জায়গা থেকে বলা হয়েছে, রমজানের পর দলের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আবার আলোচনা হবে।”

ads

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ