আর্কাইভ
ads
logo

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় ছাত্রদল নেত্রী তুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ১ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৪ পি.এম
সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় ছাত্রদল নেত্রী তুলি

ছবিঃ সংগৃহীত

ads

সংসদীয় রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংরক্ষিত নারী আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে আনুপাতিক হারে বিএনপি জোট পেতে যাচ্ছে ৩৫টি আসন। এই দৌড়ে ত্যাগী ও রাজপথের সক্রিয় নেত্রী হিসেবে জোরালো আলোচনায় উঠে এসেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানজিদা ইয়াসমিন তুলি।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আভাস অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাসেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের রাজনৈতিক প্রোফাইল ও বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ফিরিস্তি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জমা দিতে শুরু করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় নাটোর জেলা থেকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় নাম হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন তুলি।

সানজিদা ইয়াসমিন তুলি বর্তমানে ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং জিয়া স্মৃতি পাঠাগার কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সদস্য।

তুলির রাজনৈতিক উত্তরাধিকার অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তার বাবা ছিলেন নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার ২নং ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। আমৃত্যু তিনি সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে দলের জন্য কাজ করে গেছেন। বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কলেজ জীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হন তুলি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলবিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা।

আন্দোলন করতে গিয়ে বারবার ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন এই নেত্রী। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে রাজপথে ছাত্রলীগের হামলায় তিনি আহত হন। ২০২১ সালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এবং ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরে লোহার রডের আঘাতে রক্তাক্ত হন তিনি। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ পরবর্তী হরতাল-অবরোধ এবং সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানেও তার ভূমিকা ছিল অনন্য। ৫ আগস্ট ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মৎস্যভবন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে লড়াইয়েও তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।

ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীদের মতে, তুলি ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির সঙ্গে লড়াই করেও রাজপথের কর্মসূচি থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার প্রায় শতভাগ উপস্থিতি ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে সাধারণ মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে সানজিদা ইয়াসমিন তুলি বলেন, বিগত দিনের রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম এবং হামলা-মামলার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে দল নিশ্চয়ই ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবে। পল্টন ও রমনা থানায় তার নামে মামলাও রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি তাকে সুযোগ দেন, তবে তিনি দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করবেন। তুলি আরও যোগ করেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় অনেক ত্যাগী নেতাকে হয়তো আগে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি, কিন্তু এখন সময় এসেছে রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিকদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার।

ads

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ