নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের পর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তদন্তে সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আংশিক সত্যতা মিললেও এই প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট নন জাহানারা আলম।
রোববার জাহানারার নিযুক্ত আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘মাহবুব অ্যান্ড কোম্পানি’ এক বিবৃতিতে তাদের অসন্তোষের কথা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযোগকারী হিসেবে তদন্তের ফলাফল জানার পূর্ণ অধিকার জাহানারার থাকলেও বিসিবি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি।
আইনি পরামর্শকদের অভিযোগ, তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিসিবি গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও অভিযোগকারীকে তদন্ত প্রতিবেদনের কোনো অনুলিপি সরবরাহ করা হয়নি। পাশাপাশি বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অনুসন্ধান কমিটি তাদের নিজস্ব উদ্যোগে গঠিত। তবে এ দাবি নাকচ করে জাহানারার পক্ষ থেকে জানানো হয়, কমিটি মূলত তার দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তদন্তের উদ্দেশ্যেই গঠন করা হয়েছিল, স্বপ্রণোদিতভাবে নয়।
বিসিবির তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাহানারার উত্থাপিত চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটির সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে কোন দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং কোন যুক্তিতে বাকি দুটি অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে—সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এই অস্পষ্টতাকেই প্রতিবেদনের বড় ঘাটতি হিসেবে দেখছেন জাহানারা।
এর আগে গত বুধবার বিসিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে তার কিছু কর্মকাণ্ড সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘হয়রানি’র পর্যায়ে পড়ে বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বোর্ডের বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিসিবি।







