ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) রান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দুই নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার সকালে ঘটে এবং রবিবার নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পৃথক আদেশে তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার কল্পনা রানী মণ্ডল ও সিনিয়র স্টাফ নার্স রানী বালা হালদার। কল্পনা রানী বরিশাল, আর রানী বালার বাড়ি বাগেরহাট জেলার।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, ওটি-র ভেতরে গ্যাসের চুলায় রান্না করা দায়িত্বহীন ও শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণ, যা নার্সিং পেশার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতোপূর্বে ভিডিওটি গণমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। তাই বিভাগীয় মামলা, তদন্ত ও সুষ্ঠু নিষ্পত্তির স্বার্থে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে তারা বরখাস্ত অবস্থায় বিধি মোতাবেক খোরপোশ ভাতা পাবেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজারসহ দুজনের সাময়িক বরখাস্তের আদেশের কপি হাতে পেয়েছি। আদেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে তদন্ত করছে।’
ভিডিওতে দেখা যায়, অস্ত্রোপচার কক্ষে দুই নার্স শীতকালীন “খোলাজা পিঠা” রান্না করছেন, আর পাশ দিয়ে অন্যান্য নার্সরা চলাচল করছেন। ঠিক পাশের কক্ষে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার চলছে এবং রোগীর স্বজনদের চলাফেরা দেখা যায়। ভিডিওতে রান্নার সরঞ্জাম, থালা-বাসন ও হাঁড়ি-পাতিলও রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত লেবার ওয়ার্ডে প্রসূতি রোগীদের ডেলিভারি সহ অন্যান্য সেবা দেওয়া হয়। সেখানে জীবাণুমুক্ত করার জন্য ও পানি গরম করার উদ্দেশ্যে গ্যাস চুলা রয়েছে, যা দায়িত্বরত নার্সরা নিয়মিত খাবার তৈরি করতে ব্যবহার করেন বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাটি বিচারার্থে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যার আহ্বায়ক ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. জালাল হোসেন, সদস্যসচিব আবাসিক মেডিকেল অফিসার শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয়, এবং সদস্য সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট মো. আদনান আহমেদ।
.







