আর্কাইভ
ads
logo

মেনিনজাইটিস: ঝুঁকি, কারণ ও সতর্কতা

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশকাল: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৮ পি.এম
মেনিনজাইটিস: ঝুঁকি, কারণ ও সতর্কতা

ads

মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে মেনিনজাইটিসের ফলাফল। রোগটি সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকা ও সময়মতো চিকিৎসার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এই রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী।

মেনিনজাইটিস কী?

ডা. জহিরুল হক চৌধুরী বলেন, “মেনিনজাইটিস হলো মস্তিষ্ক এবং স্পাইনাল কর্ডকে ঘিরে থাকা সুরক্ষামূলক ঝিল্লি বা মেনিনজেসের প্রদাহ বা সংক্রমণ। অর্থাৎ কোনো জীবাণু বা শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যর্থ হলে এই ঝিল্লিতে সংক্রমণ হয়। এটি দ্রুত মারাত্মক রূপ নিতে পারে, তাই দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা অপরিহার্য।”

মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডকে তিন স্তরের ঝিল্লি ঘিরে রাখে:

ডিউরা মেটার

অ্যারাকনয়েড মেটার

পিয়া মেটার

এই ঝিল্লিগুলোর প্রদাহই মেনিনজাইটিস।

মেনিনজাইটিসের কারণ

1. ভাইরাল মেনিনজাইটিস:

সবচেয়ে সাধারণ এবং তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর। এটি প্রায়ই নিজে থেকেই সেরে যায়। মূল কারণের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টেরোভাইরাস, হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস, মাম্পস ভাইরাস। শ্বাসতন্ত্রের ড্রপলেট, দূষিত পানি, খাবার বা শরীরের তরল পদার্থের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ায়।

2. ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস:

সবচেয়ে মারাত্মক। দ্রুত চিকিৎসা না হলে মৃত্যু বা স্থায়ী জটিলতা হতে পারে। নেইসেরিয়া মেনিনজাইটাইডিস, স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনিয়া, হ্যামোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা হলো প্রধান ব্যাকটেরিয়া। সংক্রমণ নাক বা গলার মাধ্যমে রক্তে ছড়িয়ে মস্তিষ্কের ঝিল্লিতে পৌঁছে, কখনো সরাসরি কানের সংক্রমণ, সাইনাস বা মাথার আঘাত থেকেও বিস্তার পেতে পারে।

3. টিউবারকুলাস (টিবি) মেনিনজাইটিস:

শরীরে আগে থেকে টিবি থাকলে ধীরে ধীরে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

4. ফাঙ্গাল সংক্রমণ:

প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যেমন ডায়াবেটিস, ক্যানসার বা এইচআইভি রোগীরা। ক্রিপটোকক্কাস ছত্রাক মূল কারণ।

লক্ষণ

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে:

উচ্চ জ্বর

তীব্র মাথাব্যথা

ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া (নেক রিজিডিটি)

বমি ভাব

আলো সহ্য করতে না পারা (ফটোফোবিয়া)

অচেতনতা বা খিঁচুনি

শিশুদের মধ্যে:

অস্বাভাবিক কান্না

খেতে না চাওয়া

শরীর ঢিলে বা অতিরিক্ত খিটখিটে

মাথার উপরের নরম অংশ ফোলা (বালগিং ফনটানেল)

ব্যাকটেরিয়াল ক্ষেত্রে ত্বকে লালচে বা বেগুনি দাগ দেখা দিতে পারে

ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি

৫ বছরের নিচের শিশু

বয়সে বৃদ্ধ মানুষ

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তি

হোস্টেল বা ডরমিটরিতে থাকা মানুষ

টিকা না নেওয়া ব্যক্তি

দীর্ঘদিন কানের বা সাইনাসের সংক্রমণ থাকা ব্যক্তি

নির্ণয় ও চিকিৎসা

ডা. জহিরুল হক চৌধুরী জানান, “মেনিনজাইটিস নির্ণয়ে লুম্বার পাঙ্কচার (সিএসএফ পরীক্ষা) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া রক্ত পরীক্ষা, কিছু ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করা হয়।”

চিকিৎসা নির্ভর করে সংক্রমণের ধরন, রোগীর বয়স ও তীব্রতার ওপর। ব্যাকটেরিয়াল হলে দ্রুত আইভি অ্যান্টিবায়োটিক ও কখনো স্টেরয়েড দিতে হয়। ভাইরাল হলে সাধারণ সহায়ক চিকিৎসা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, তরল পান এবং জ্বর/ব্যথা কমানোর ওষুধ যথেষ্ট। হারপিস ভাইরাস হলে অ্যাসাইক্লোভির দেওয়া হয়। টিবি বা ফাঙ্গাল হলে দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়।

প্রতিরোধ

সময়মতো টিকা নেওয়া: হ্যামোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি, নিউমোকক্কাল, মেনিনগোকক্কাল ভ্যাকসিন।

ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মানা

সংক্রমিত ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকা

প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ

ডা. জহিরুল হক চৌধুরী বলেন, “হঠাৎ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা ও ঘাড় শক্ত হওয়া দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মারাত্মক হতে পারে।”

ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ