ফরিদপুরে একটি বড় ধরনের চোর চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। একটি ইজিবাইক চুরির ঘটনার সূত্র ধরে তদন্তে নেমে আন্তঃজেলা এই চক্রের ১২ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি হওয়া ১৮টি ইজিবাইক।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম।
পুলিশ সুপার জানান, সম্প্রতি কোতোয়ালি থানার একটি পার্কিং এলাকা থেকে একটি ইজিবাইক চুরির ঘটনায় মামলা দায়ের হয়। এরপর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে একজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে চক্রের বাকি সদস্যদের ধরা হয়। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ইজিবাইক চুরির রাজত্ব কায়েম করেছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা চুরির অভিনব কৌশল সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। তারা জানায়, চুরি করা ইজিবাইকগুলো সহজে চেনার উপায় থাকত না। কারণ অবৈধ গ্যারেজে নিয়ে এগুলোর রং বদলে ফেলা হতো, ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর বিকৃত করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশ খুলে আলাদা করে পুনরায় সংযোজন করে বাজারে বিক্রি করা হতো। অভিযানে ১৩টি সচল ও ৫টি অচল ইজিবাইকসহ বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ ও কাটার মেশিন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত যানের মধ্যে মামলার বাদীর চুরি হওয়া ইজিবাইকটিও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোজাম্মেল মণ্ডল, ইলিয়াস হোসেন, আবুল হোসেন মোল্লা, তানভীর শেখ, আওয়াল বিশ্বাস, বদিউজ্জামান মোল্লা, মৃদুল, মিলন খান, মো. আশরাফ, শহীদ শিকদার, জুয়েল রানা ও রনি মিয়া। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকেই পেশাদার চোর চক্রের সদস্য।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ব্রিফিংকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, আজমির হোসেন ও রায়হান গফুরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







