জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে মোটরসাইকেল যোগে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে জনতা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ে সোপর্দ করার পর জব্দকৃত মাদকের একাংশ উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয় এবং তারা বড়তারা ইউপি কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং ২৭ কেজি গাঁজাসহ আটক দুজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় এই তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। আটককৃতরা হলেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার টাঙ্গর গ্রামের জসিম উদ্দিন এবং একই জেলার কাটাখালী থানার আব্দুল মতিন।
গোয়েন্দা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে বস্তাভর্তি গাঁজা নিয়ে যাচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ তাদের অনুসরণ করলে কারবারিরা দ্রুত সটকে পড়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বড়তারা এলাকায় স্থানীয় জনতা তাদের গতিরোধ করে তল্লাশি চালায় এবং গাঁজাসহ হাতেনাতে ধরে ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। তবে অভিযোগ ওঠে, ইউপি কার্যালয়ে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই সেখান থেকে কৌশলে কিছু গাঁজা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ঘেরাও করে হৈচৈ শুরু করেন।
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে জনতাকে আশ্বস্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেখান থেকে ২৭ কেজি গাঁজা উদ্ধারসহ আটক দুই কারবারিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এদিকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিক বড়তারা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের অনুসারীদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান জানান, মাদক কারবারিদের গতিপথ আগে থেকেই নজরদারিতে ছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।







