রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। চাঞ্চল্যকর এই প্রতিবেদনে বর্বরোচিত সেই হত্যাযজ্ঞের মূল নির্দেশদাতা হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উঠে এসেছে। এই ঘটনায় শেখ হাসিনাকে প্রধান অভিযুক্ত করে অন্তত ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শাপলা চত্বরে সমাবেতদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার সরাসরি নির্দেশনা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা গণভবন থেকে এসেছিল। এই অপরাধে শেখ হাসিনা ছাড়াও তালিকায় নাম রয়েছে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এবং আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের।
প্রতিবেদনে আরও যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি ওমর ফারুক, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার ও শাহরিয়ার কবীর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খোন্দকার, শহিদুল হক, ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ, র্যাবের তৎকালীন ডিজি মোখলেস এবং আলোচিত কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ পুলিশের আরও বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই মামলায় চারজন গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম।
তবে ওই অভিযানে ঠিক কতজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার একটি চূড়ান্ত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তারা মূলত মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর সংগৃহীত ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের নিহতের তালিকাকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে এই তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন।







