আর্কাইভ
ads
logo

কষ্টে ফলানো আলু নিয়ে রাজশাহীতে বিপাকে কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৬ পি.এম
কষ্টে ফলানো আলু নিয়ে রাজশাহীতে বিপাকে কৃষক

ads

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় চলতি আলুর মৌসুমে কৃষকেরা আবারও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নতুন আলুর দাম প্রতি কেজিতে মাত্র ৯ থেকে ৯.৫ টাকা। এর সঙ্গে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ৫ কেজি আলু দিতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। ফলে ফলন ভালো হলেও তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না।

আলু চাষি ফিরোজ কবির জানান, এক বিঘা জমিতে আলু তুলনামূলক ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৪০–৪৫ বস্তা (প্রতি বস্তা ৬০ কেজি) আলু উৎপাদন হয়েছে। প্রতি বস্তা ৬০০–৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও, খরচ হয়েছে ৬০–৬৫ হাজার টাকা। ফলে প্রতি বিঘায় প্রায় ৩০–৩৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

আরেক চাষি রইচ জানিয়েছেন, সাড়ে তিন বিঘা জমির আলু কেজিপ্রতি ৯.৫ টাকায় বিক্রি করেছেন।

চাষি কুরবান বলেন, “আড়াই বিঘা জমিতে আলু চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বিক্রি থেকে এসেছে মাত্র ২৬–২৮ হাজার টাকা। বিঘায় ৩২ হাজার টাকার লোকসান হলে, পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।”

কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, ৭০ কেজির বস্তা লোড হলেও ৬৫ কেজির দাম দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি বস্তায় ৫ কেজি অতিরিক্ত আলু দিতে হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের লাভ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এইভাবে প্রতি বিঘায় প্রায় ২৫০ কেজি আলু অতিরিক্ত চলে যাচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার ৩৭৫ টাকা।

বাজারি ব্যবসায়ী আইনুল জানিয়েছেন, এসব আলু খুলনায় বিক্রি করা হবে, সেখানে কেজিপ্রতি ১–২ টাকা বেশি দাম পাওয়া যেতে পারে। ঢলনের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বলেন, “জমি থেকে কাঁচা আলু কেনা হয়। পরিবহন ও সংরক্ষণের সময় ওজন কমে যায়, তাই অতিরিক্ত দিতে হয়।”

আরেক ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, “গত বছর যেমন ক্ষতির মুখে পড়েছিল কৃষকরা, এবারও তা পুনরাবৃত্তি হয়েছে। অনেক চাষি ঋণ নিয়ে জমি কমিয়ে আলু চাষ করেছেন, কিন্তু এবারও লোকসান থেকে বাঁচতে পারছেন না।”

চাষিরা আরও জানান, এখনও পুরোপুরি আলু উঠানো শুরু হয়নি। রহিমাডাঙ্গা বিলের জমির আলু প্রায় ৮–১০ দিন আগে উঠতে শুরু করেছে। তখনও কেজিপ্রতি দাম ছিল ৯.৫ টাকা, যা এখনও বহাল। যদিও জমি লিজ ও বীজের দাম কিছুটা কমে গেছে, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এ মৌসুমে উপজেলায় ১২,১৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১৫০ হেক্টর জমির আলু ইতিমধ্যেই তোলা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড়ে ২৫ মেট্রিক টন ফলন হয়েছে। তিনি আরও জানান, “কৃষি বিভাগ চাষাবাদ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কাজ করে; বাজারদর নির্ধারণের দায়িত্ব কৃষি বিপণন বিভাগের।”


ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ