আর্কাইভ
ads
logo

১২ লাখ মে:টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে খুলনা কৃষি বিভাগ

Rakib@thevoice24.com

প্রকাশকাল: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩২ এ.এম
১২ লাখ মে:টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে খুলনা কৃষি বিভাগ

ads

চলতি বোরো মৌসুমে ১২ লাখ ১০ হাজার ২৮৩ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে খুলনা কৃষি বিভাগ। খুলনা কৃষি অঞ্চলের চারটি জেলায় শীত এবং কুয়াশা উপেক্ষা করে বোরো ধানের চাষ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। 

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর মোট ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১২ লাখ ১০ হাজার ২৮৩ মেট্রিক টন ধান। 

স্থানীয় কৃষকরা এখন জমি এবং বীজতলা প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পূর্ণ মাত্রায় চারা রোপণ শুরু হবে। কৃষি বিভাগের এই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।   

সূত্র জানায়, গত বছর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনায় ২ লাখ ৫৭ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭১ মেট্রিক টন। খুলনা বিভাগে, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে বোরো ধান রোপণ সাধারণত জানুয়ারির প্রথম দিকে শুরু হয় এবং ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলতে থাকে। যা জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এ অঞ্চলে ম্যানুয়াল (হাতে) রোপণ এবং যান্ত্রিক ধান রোপণ যন্ত্র উভয়ই ব্যবহার করা হয়। কিছু এলাকায় যান্ত্রিক ধান রোপণ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

জানা যায়, খুলনা জেলায় ৬৬ হাজার হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যেই ২৮ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো চারা রোপণ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৬০ মেট্রিক টন। 

একইভাবে বাগেরহাটে ৬৭ হাজার ৬২২ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫৭২ মেট্রিক টন। 

সাতক্ষীরায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৫৫ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন। নড়াইলে ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৩ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৩০ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন।


কৃষকরা আধুনিক, উচ্চ ফলনশীল এবং খরা-সহিষ্ণু জাত যেমন : বোরো ধান, ২৮, ২৯, ৪৮, ৫৮, ৭৪, ৮৪, ৮৯, ৯২ এবং ১০০ ব্যবহার করছেন। একই সাথে ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে বীজতলা রক্ষা করার জন্য সু-রক্ষামূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করছেন।


কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, স্বল্পমেয়াদি এবং খরা-সহিষ্ণু জাতগুলির চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ এই জাতগুলি তুলনামূলকভাবে কম সেচের মাধ্যমে ভালো ফলন নিশ্চিত করে।


ডুমুরিয়া উপজেলার কদমতলা গ্রামের কৃষক শমসের আলী জানান, তিনি এই মৌসুমে ২৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষের জন্য ৪০ শতাংশ জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করেছেন।


শীতজনিত জটিলতা থেকে বীজতলা রক্ষা করার জন্য তিনি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন এবং গত সপ্তাহ থেকে চারা রোপণ করছেন।


তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মৌসুমে ভালো ফলন এবং ন্যায্য বাজার মূল্য তাদের বোরো চাষ তীব্রতর করতে উৎসাহিত করেছে। যা এই অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।


খুলনা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূল রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য চাষ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।


তিনি বলেন, কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নির্দেশ অনুযায়ী, এক ইঞ্চিও আবাদি জমি পতিত রাখা যাবে না। কৃষকদের সব পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কোনও সেচ সংকট নেই এবং সরকারি প্রণোদনা বোরো চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া বোরো চাষ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং পল্লি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসহ সার, কীটনাশক এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 


মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, গবেষক এবং বিজ্ঞানীরা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার জন্য সরাসরি কৃষকদের কাছে উচ্চ ফলনশীল জাত সরবরাহ করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ads

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ