- শিক্ষা
- ‘চায়ের আড্ডায়’ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শহর ও রাষ্ট্র গড়ার ভাবনা শেয়ার করলেন জাইমা রহমান
-
‘চায়ের আড্ডায়’ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শহর ও রাষ্ট্র গড়ার ভাবনা শেয়ার করলেন জাইমা রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশকাল: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৭ পি.এম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তরুণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করলেন বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। ঢাকার মহাখালীর ডিওএইচএস খেলার মাঠে সোমবার আয়োজিত ‘চায়ের আড্ডা’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা তাদের শহর, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের যত্ন, শিক্ষার্থীদের পার্টটাইম চাকরির সুযোগ, ঢাকার যানজট, সাইবার বুলিং, গ্যাস ও পানি সমস্যা—এই সব বিষয় আড্ডায় আলোচিত হয়।
জাইমা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “যদি সুযোগ তৈরি করা যায়, আমাদের যেটা মনে হয় সব ধরনের মানুষই স্টেট বিল্ডিংয়ে অংশগ্রহণ করতে পারে। আমাদের উদ্দেশ্যটা হচ্ছে, যেমনটি আমরা যে বললাম ‘ডাইভার্স বাংলাদেশ’, ‘ফ্রিডম অব স্পিচ’, সবার জন্য খাদ্য, ‘ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ’। এখন যদি উদ্দেশ্য এক হয়, বিভিন্ন জায়গা থেকে যদি মানুষ কাজ করতে চায়, নিশ্চয়ই আমরা তাদের সুযোগ দেব।”
এক শিক্ষার্থীর মন্তব্য, “আপনার তো কাজ করার সুযোগ আছে,” শুনে জাইমা বলেন, “দেখি, ইনশাল্লাহ। সকলে মিলে কাজ করতে পারব, একা তো কাজ করা সম্ভব নয়। ইনশাল্লাহ।”
জুলাই আন্দোলনে আহত ও পঙ্গু হওয়া তরুণদের নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “অবশ্যই কনসার্ন আছে। আব্বা আর আমি, আম্মা, আমরা সবাই এই বিষয়টার ব্যাপারে আলোচনা করি। উত্তর লম্বা হয়ে যাবে। সময় এখন খুব কম, আমাকে আরেকটা টেবিলে যেতে হবে। দুঃখিত, এটা নিয়ে আরও কথা পরে বলব।” এরপর তিনি অন্য টেবিলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হন ও আলোচনা চালান।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের মধ্যে ঢাকা শহরের উন্নয়ন, শিক্ষাব্যবস্থা ও সাইবার বুলিং-এর বিষয়ও ছিল। জাইমা বলেন, “বুলিংয়ের মাধ্যমে নারীদের পাবলিক লাইফ থেকে সরানো হচ্ছে। মানসিকতা পাল্টানো খুব কঠিন। আপনারা অন্তর্ভুক্তিমূলক ঢাকা দেখতে চাচ্ছেন, যেখানে বিভিন্ন ধরনের মানুষ থাকবে।”
কর্মসংস্থান ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। ঢাকার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ব্যবধান কমানোর প্রস্তাবও উঠে আসে।
ঢাকার যানজট নিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, “অফিস ও স্কুল-কলেজের সময় একই হওয়ায় যানজট প্রকট। স্কুল একটু দেরিতে শুরু করা যেতে পারে।” জবাবে জাইমা বলেন, “মানুষরা সবসময় গাড়িতে বা বাসে চড়ে। যদি ১০–১২ মিনিট হেঁটেও যেতে পারে, তাতেই ভালো। রাস্তা ও স্ট্রিট লাইটিং ঠিক থাকলে যেকোনো জায়গা হেঁটে যাওয়া সম্ভব।”
শহরে গ্যাস ও পানির সমস্যা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মতামত নেন জাইমা। একজন বলেন, “ক্যান্টনমেন্টে যানবাহন সুন্দরভাবে চলে, কিন্তু বাইরে এলোমেলো হয়ে যায়। ট্রাফিক শৃঙ্খলা এলে দেশ এগোচ্ছে মনে হবে।” জাইমা মন্তব্য করেন, “সড়ক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ সময় ধরে বিশৃঙ্খলা চলছে।”
শহরের দূষণ, খাল-বিলের অবস্থা ও পার্ক সংস্কারের গুরুত্বও তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। জাইমা বলেন, “ফ্লাইওভার হয়েছে, কিন্তু নিচ দিয়ে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়নি। রাতের সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।”
শিক্ষার্থীরা সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা (কোলাবরেশন) নিয়ে প্রশ্ন করলে একজন বলেন, “এটা হয় না, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা দুনিয়া মনে করা হয়।” জাইমা মন্তব্য করেন, “নতুন প্রজন্ম দিয়েই পরিবর্তন সম্ভব হবে। আমরা সবাইকেই সমান ভাবি।”
‘চায়ের আড্ডা’তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কলেজের অন্তত ৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। ছয়টি টেবিলে বসে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তারা শহর ও দেশের ভবিষ্যৎ গঠন নিয়ে ভাবনা শেয়ার করেন।