সংবিধান সংস্কার, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও গণভোট
১। তাহলে, যে নির্বাচন হতে চলেছে, তাতে নির্বাচিত ব্যক্তিবর্গ নির্বাচিত হবেন –
ক) ১৩ তম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য হিসেবে এবং
খ) সংবিধান সংস্কার পরিষদের {জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ অনুযায়ী গঠিতব্য বা ‘বাস্তবায়ন আদেশ’} সদস্য হিসেবে।
২। একই নির্বাচনের মাধ্যমে দু’টি পৃথক সভার জন্য নির্বাচিত সদস্যগণ আলাদা-আলাদা শপথ গ্রহণ করবেন। তাদের আলাদা অধিবেশন ও আলাদা কর্মপদ্ধতি থাকবে। সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যথারীতি স্পীকার ও পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সভা-প্রধান নির্বাচিত হবেন।
৩। পরিষদ সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। পরিষদ প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে। উক্ত কার্য সম্পন্ন করবার পর পরিষদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে।
৪। সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব পাশের জন্য পরিষদের মোট সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
৫। পরিষদ কর্তৃক গৃহীত সংবিধান সংস্কার চূড়ান্ত হবে এবং উক্তরূপ সংস্কার বিষয়ে অন্য কোনভাবে অনুমোদন বা সম্মতির প্রয়োজন হবে না।
দেখে মনে হচ্ছে যে, এই আদেশের রচয়িতারা ১৯৭০ সালের লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার দ্বারা বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত। তবে, লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার-এর যৌক্তিকতা অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হয়েছিল এই জন্য যে, ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া মার্শাল ল’ প্রক্লেমেশন জারির মাধ্যমে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র বাতিল করেছিলেন। আর নির্বাচনের মাধ্যমে যে নতুন জাতীয় পরিষদ গঠিত হয়েছিল তার কাজ ছিল পাকিস্তানের নতুন শাসনতন্ত্র তৈরি করা, সংস্কার করা না।
যেখানে আমার যুক্তি পথ হারাচ্ছে, তা হল –
১। আমাদের সংবিধান যদি রহিত না হয়ে থাকে, তাহলে সংবিধানে সংসদকে সংবিধান সংস্কারের ক্ষমতা দেয়া থাকা অবস্থায়, অন্য একটি পরিষদ কিভাবে সংবিধান লঙ্ঘন না করে, বৈধভাবে সেই কর্তব্য পালন করবে?
২। সংবিধানে সংবিধান সংস্কারের যে পদ্ধতি বিধৃত করা আছে (যেমন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি), পরিষদ কিভাবে ভিন্ন পদ্ধতিতে (যেমন সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায়) বৈধভাবে সংবিধান সংশোধন করবে?
৩। কি করে পরিষদের সেই সংশোধন সংসদের নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনুমোদিত না হয়ে বৈধভাবে কার্যকর হবে?
৪। আচ্ছা তর্কের খাতিরে ধরা যাক, গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে, জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে পরিষদ সংবিধান সংস্কারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবে। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন হল – সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও তার সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতাপ্রাপ্তি সংক্রান্ত প্রশ্নটি কি গণভোটে আছে?
৫। নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ কি তাহলে একই দিনে ও একই সাথে সংবিধান রক্ষণ ও সংবিধান লঙ্ঘনের শপথ গ্রহণ করবেন?
ব্যারিস্টার আসিফ বিন আনোয়ার ,
শিক্ষক ও আইনজীবী
সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা







