আর্কাইভ
ads
logo

চুক্তিভিত্তিক সচিব নিয়োগ: কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২৭ পি.এম
চুক্তিভিত্তিক সচিব নিয়োগ: কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ

ads

সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক পদগুলোতে চুক্তিভিত্তিক সচিব নিয়োগের সম্ভাবনা বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের পদায়ন কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলতে পারে।

গত সোমবার ১৩ জন সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরানোর পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব নিয়োগের কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে কিছু বর্তমান সচিবকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ পদে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে, যাতে শীর্ষ পদগুলোতে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ সম্ভব হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়া অন্তত ৮-১০ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম এখন প্রশাসনের আলোচনায় উঠে এসেছে। এদের মধ্যে ১৯৮৪ ব্যাচের আব্দুল খালেক, ১৯৮৫ ব্যাচের কামরুজ্জামান, বাকী বিল্লাহ ও তৌহিদুল ইসলাম, ১৯৮৬ ব্যাচের জাকির হোসেন কামাল এবং ১১তম ব্যাচের ফরিদুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছেন।

গতকাল রাতে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাওয়া মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে নতুন সরকার ১৯৮২ ব্যাচের এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছিল।

পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা এক অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, তারা অতীতে কঠোর সময় পার করেছেন। তবে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির মাধ্যমে ইতোমধ্যেই পদমর্যাদা এবং আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন। এখন যদি তারা আমাদের প্রাপ্য পদগুলো দখল করেন, তবে নতুন বৈষম্য তৈরি হবে।”

আরেকজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, “বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও সরকার শীর্ষ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে শুরু করেছে। একজন চুক্তিভিত্তিক সচিব শীর্ষে আসলে তার অধীনে অন্তত দুই-তিনজন মেধাবী কর্মকর্তার পদোন্নতি থমকে যায়, ফলে দায়িত্ব পালনে অনায়াস বাধা সৃষ্টি হয়।”

সাবেক সচিব বদিউর রহমান বলেন, “আমলাতন্ত্রের বেড়াজাল ভাঙা সহজ নয়। যে জনসমর্থন ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি নিয়ে এই সরকার কাজ শুরু করেছে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ তার সঙ্গে মোটেও মানানসই নয়। ইতিহাস বলছে, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সময়ও শীর্ষ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ শেষ পর্যন্ত ক্ষতি করেছে।”

যদিও গত সোমবার নয়জন সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ কিছু স্থানে এখনও চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তারা দায়িত্বে আছেন।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গতকাল দুই সচিবের বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং মো. আনোয়ার জাহান ভূঁইয়াকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।

ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ